গাজা উপত্যকায় পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করা ৩০০ জনেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রীকে সম্মাননা প্রদান করেছে তুরস্কের ‘হেদাই এনডাউমেন্ট ফাউন্ডেশন’। ইসরায়েলি হামলা, বাস্তুচ্যুতি ও চরম মানবিক সংকটের মধ্যেও কুরআন হিফজ করার সাফল্য অর্জন করায় তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে গাজার মধ্যাঞ্চলীয় শহর দেইর আল-বালাহর ‘আনান স্টেডিয়ামে’ এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে হাফেজ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ধর্মীয় পণ্ডিত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনের জাতীয় সংগীত পরিবেশন, ধর্মীয় সংগীত, বিশেষ মোনাজাত এবং শেষে কুরআন হাফেজদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
হেদাই ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি বিলাল আবু-তাইর আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, গাজায় ফাউন্ডেশনের পরিচালিত স্কুল নেটওয়ার্কের শিক্ষা ও ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তাদের এই নেটওয়ার্কে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী শিক্ষা ও অন্যান্য সহায়তা পেয়ে আসছে।
তিনি বলেন, ইসরায়েলি হামলার সময় এসব শিক্ষার্থীকে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাদের অনেকে ঘরবাড়ি ও স্বজন হারিয়েছে। এমনকি কেউ কেউ পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবেও টিকে আছে। বিদ্যুৎ, খাবার ও পানির সংকটের পাশাপাশি তাঁবুর অসহনীয় গরমের মধ্যেও তারা কুরআন মুখস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে গেছে।
আবু-তাইরের ভাষায়, এই শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ফিলিস্তিনিরা তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যেতে পারে।
সম্মাননাপ্রাপ্ত হাফেজদের একজন শাজি হামাদ বলেন, বাস্তুচ্যুতি, বোমা হামলা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে কুরআন মুখস্থ করা সহজ ছিল না। তবে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। আল্লাহর রহমত এবং বাবা-মা ও বোনদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত তিনি হিফজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন।


























