কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলায় আল-আজহার ইসলামিক সেন্টারের প্যাভিলিয়নে প্রদর্শিত হচ্ছে পবিত্র কোরআনের একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও দুর্লভ কপি, যা সম্প্রতি কেন্দ্রটিকে উপহার দেওয়া হয়েছে। রাজকীয় ক্যালিগ্রাফির ঐতিহ্য ও আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির সংমিশ্রণে নির্মিত এই কোরআন কপিটি শিল্পকলার এক অনন্য নিদর্শন।
ফিটো ওয়েবসাইটের তথ্যানুসারে, প্রায় দুই দশকের পরিশ্রমে প্রস্তুত এই বিশেষ কোরআন শরিফটি ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ৫৭তম কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলায় আল-আজহার ইসলামিক সেন্টারের প্যাভিলিয়নে প্রদর্শিত হচ্ছে।
মিশরের আল-মাকাঞ্জ ইসলামিক সোসাইটির পক্ষ থেকে উপহার দেওয়া এই কোরআনে প্রয়াত খ্যাতনামা ক্যালিগ্রাফার মুহাম্মদ জাফর বেগের (ইন্তেকাল ১৯১৬) হাতের লেখা এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির নিপুণ ব্যবহার একত্রিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইসলামি বিশ্বের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে মামলুক ও ইলখানিদ যুগের গৌরবময় শিল্পঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া এক অনন্য ভিজ্যুয়াল ঐতিহ্য।
এই ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী কোরআন কপিটি কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলার দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে। এটি রাজকীয় ক্যালিগ্রাফির ঐতিহ্য এবং উন্নত কম্পিউটার প্রযুক্তির সফল সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
কোরআনটি প্রস্তুত করতে ব্যাপক বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি গবেষণা করা হয়েছে এবং বিখ্যাত কিং ফুয়াদ টাইপফেস ও বিশেষায়িত কম্পিউটার সফটওয়্যারের মাধ্যমে এটি ডিজিটালভাবে পুনর্গঠন করা হয়েছে।
প্রায় ২০ বছরের শ্রমে সম্পন্ন এই কোরআনে ইলখানিদ ও মামলুক আমলের মূল্যবান ক্যালিগ্রাফি কোরআন থেকে অনুপ্রাণিত জ্যামিতিক নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। আলোকসজ্জা ও অলঙ্করণে ব্যবহৃত রঙগুলোর ক্ষেত্রেও ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে।
কোরআনটির মলাট তৈরি করা হয়েছে বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক ভেজিটেবল-ট্যানড চামড়া দিয়ে, যেখানে মামলুক যুগের জ্যামিতিক নকশা অনুকরণে রঙ ও সোনার সূক্ষ্ম অলঙ্করণ এবং এমবসড থার্মাল খোদাই করা হয়েছে।
আল-মাকাঞ্জ ইসলামিক সোসাইটি এই বিশেষ কোরআন শরিফটি আল-আজহার ইসলামিক সেন্টারকে উপহার দেয়। এতে ব্যবহৃত হয়েছে খাঁটি তুলা থেকে তৈরি অ্যাসিডমুক্ত উন্নতমানের কাগজ, যাতে দীর্ঘদিন ধরে আলোকসজ্জা ও রঙের উজ্জ্বলতা অক্ষুণ্ন থাকে।
উল্লেখ্য, ৫৭তম কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি মিশরের ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে শুরু হয় এবং চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
চলতি বছরের বইমেলার প্রতিপাদ্য— “যে এক ঘণ্টা পড়া বন্ধ করে, সে শতাব্দীর পেছনে পড়ে যায়।” এবারের মেলায় ৮৩টি দেশের ১,৪৫৭টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। ইকনা



























