ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো হলে ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়াই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তেল আবিবকে সম্পূর্ণ একাই লড়তে হতে পারে।
গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সোমবার ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা সামনে আসে। যদিও আপাতত উভয় পক্ষই হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে এবং ওমানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরান ও ইসরাইল উভয় পক্ষকেই অবিলম্বে গোলাগুলি বন্ধ করার আহ্বান জানান। পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুকে ফোন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
ট্রাম্পের ভাষায়, তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, ‘বিবি, তোমাকে আরও সতর্ক হতে হবে, অন্যথায় খুব শিগগিরই তুমি একদম একা হয়ে পড়বে।’ বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়ে এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরাইলের বিমান হামলার মাধ্যমে। এর জবাবে ইরান উত্তর ইসরাইল লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন নাসর’। পরে সোমবার ভোরে ইসরাইল ইরানের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
জবাবে ইরানও হাইফার একটি শিল্পকারখানা এবং দুটি ইসরাইলি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করা হওয়ায় কোনো পক্ষেই বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।সংবাদ প্রতিবেদন
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দুই নেতার মধ্যকার উত্তেজনাকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি বিষয়টিকে ‘প্রেমিক-প্রেমিকার সাময়িক ঝগড়া’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুরোধে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সম্মত হয়েছেন নেতানিয়াহু।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই সংঘাতের দায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়েছেন। তার অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের জন্য ওয়াশিংটনও সমানভাবে দায়ী।
এদিকে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেই ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে জবাব দিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় আপাতত হামলা বন্ধ রাখা হয়েছে।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় এখনো কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক সহায়তা অব্যাহত থাকলে ট্রাম্পের এই মৌখিক হুঁশিয়ারি বাস্তব পরিস্থিতিতে খুব বেশি পরিবর্তন আনতে পারবে না।
তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা



























