হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন হামলার পর এবার বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। তবে হামলার পরিমাণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর, কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং জর্ডানে মার্কিন সেনা উপস্থিতিসম্পন্ন একটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। তেহরানের দাবি, এই হামলায় ড্রোন এবং অন্যান্য দূরপাল্লার সক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে।
এর আগে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ইরানি ড্রোনের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছে। এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম দ্বীপ এলাকার কয়েকটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপনায় লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালায়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এই অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করে একে “আনুপাতিক আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলায় সিরিক জেলার দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে এবং একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন হামলার পরপরই আইআরজিসি এবং ইরানের সেনাবাহিনী যৌথভাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু করেছে বলে দাবি করা হয়। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতিকে অস্থিতিশীলতার কারণ হিসেবে আখ্যা দেয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের সংকল্পকে পরীক্ষা করার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকিকে জবাবহীন রাখবে না। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। তথ্যসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, ফার্স নিউজ এজেন্সি



























