ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরাইল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকতে পারত না বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ কারণে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ার পর মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপ এবং নেতানিয়াহুর ভূমিকাও সমালোচনা করেন।
ট্রাম্পের অভিযোগ, লেবাননে ইসরাইলের হামলা দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতার প্রক্রিয়াকে প্রায় ভেস্তে দিতে বসেছিল। তিনি নেতানিয়াহুকে ‘খুবই কঠিন একজন মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “সত্যি বলতে, এ জন্য তার আমাদের প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ ইরানের যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তাহলে ইসরাইল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকতে পারত না।”
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, ইরানের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা নিশ্চিত করতে হলে দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানো জরুরি।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলাই তেহরানকে আলোচনায় বসতে এবং শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় রাজি হতে বাধ্য করেছে।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “তারা তৃতীয় হামলা চায়নি। তারা বেঁচে থাকতে চায়।” তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এই সমঝোতা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ট্রাম্পের ভাষায়, “মূল বিষয় হলো, আমাদের চালানো হামলাগুলো এই চুক্তি বাস্তবায়নে বিশাল ভূমিকা রেখেছে। এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত বড়।”
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার ঘোষণা নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ইসরাইলের অবস্থান নিয়ে সামনে আরও জটিল আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তথ্যসূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস




























