কাতার মঙ্গলবার সতর্কবার্তা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তা উপসাগরীয় অঞ্চলে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ইরানে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গা দমন এবং ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য হামলার হুমকির পর এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজিদ আল-আনসারি দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা জানি যে যেকোনো উত্তেজনা এই অঞ্চলে এবং এর বাইরেও বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে আনবে। তাই আমরা যতটা সম্ভব তা এড়াতে চাই।”
গত বছরের জুনে ইরান কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ায়। এই নজিরবিহীন হামলার পর কাতার মধ্যস্থতা করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে।
ইরানজুড়ে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গার প্রতিবাদে সোমবার রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থল ঐতিহাসিক ইনকিলাব স্কয়ারে কয়েক মিলিয়ন মানুষ সমবেত হন। একই ধরনের বৃহৎ জনসমাবেশ ইরানের অন্যান্য শহর ও অঞ্চলেও অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী হামলায় বহু নিরাপত্তা সদস্য ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে ইরানি সরকার সোমবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
ইরানি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, তেল ও ব্যাংকিং খাতকে লক্ষ্য করে আরোপিত একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশে অর্থনৈতিক চাপ ও জনঅসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তবে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ও বৈধ প্রতিবাদ এবং সহিংস দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে এবং রাষ্ট্র এই দুই বিষয়কে একভাবে দেখবে না।



























