ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সংসদ ( মজলিসে শুরা) স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ আরবাঈনের উদ্দেশ্যে জিয়ারতকে মুসলিম উম্মাহর কোমল শক্তির প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বুধবার পবিত্র শহর মাশহাদে অনুষ্ঠিত আরবাইন সাংস্কৃতিক কর্মীদের ৫ম আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। কলিবফ বলেন, আরবাইন মিছিল হুসেইনি সংস্কৃতির এক অসাধারণ প্রকাশ এবং একটি মহান ঐতিহ্য যা আরবাইনের মানব সমাবেশের অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যের আলোকে বিশ্ববাসীর কাছে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, ঐক্য, প্রতিরোধ এবং মানবিক মর্যাদার বার্তা পৌঁছে দেয়।
তিনি বলেন, “এই মহান মহাকাব্যের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর জনপ্রিয় প্রকৃতি; একটি সচেতন, স্বতঃস্ফূর্ত ও দায়িত্বশীল উপস্থিতি, যা মুসলিম জাতির বিশ্বাসের গভীরতা, সামাজিক সংহতি ও সাংস্কৃতিক মূলধনকে প্রতিফলিত করে”
কলিবফ আরও বলেন, আরবাইন ধর্মীয় ও বিপ্লবী মূল্যবোধ ও আচার-অনুষ্ঠান সংরক্ষণে জনগণের ভূমিকার বহিঃপ্রকাশ এবং আজকের সমাজের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক মডেল। তিনি আরবাঈনকে একটি মহান বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আখ্যা দেন, যা একজন ঈমানদার, সচেতন ও দায়িত্বশীল মানুষ গড়ে তুলতে সহায়ক। একই সঙ্গে এটি তরুণ প্রজন্মের পরিচয় গঠনের একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করে, যেখানে সাংস্কৃতিক অগ্রগণ্য ব্যক্তিরা ভূমিকা রাখতে পারেন এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে আশুরার শিক্ষার গভীর সংযোগ স্থাপন করতে পারেন।
কলিবফ বলেন, আরবাঈন সামাজিক সংহতি জোরদার করতে, ইসলামী পরিচয়কে আরও গভীর করতে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানি জাতির একটি মর্যাদাপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ ভাবমূর্তি উপস্থাপন করতে সাহায্য করতে পারে। এ লক্ষ্যে আরবাঈনের সাংস্কৃতিক, শৈল্পিক, শিক্ষামূলক এবং মিডিয়া ক্ষমতার বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার একটি অনস্বীকার্য প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, “আমি এই উৎসাহী মানবিক আন্দোলনের সকল প্রিয় মানুষ এবং সেবকদের এবং এই সভা ও কংগ্রেস আয়োজনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি আশা করছি আপনাদের প্রচেষ্টা, উদ্যোগ এবং হুসেইনি সংস্কৃতির সেবকদের মাধ্যমে, আজকের প্রজন্মের ভাষা ও চাহিদা অনুসারে আশুরার বার্তা যতটা সম্ভব ব্যাপকভাবে এবং কার্যকরভাবে প্রচারিত হবে।”
উল্লেখ্য, আরবাঈন হলো আশুরার পর চল্লিশতম দিনে পবিত্র আহলে বাইতের অনুসারীদের দ্বারা পালিত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, যা নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতকে স্মরণ করে।
এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বার্ষিক ধর্মীয় তীর্থযাত্রা, যেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ আহলে বাইতের অনুসারী ছাড়াও বহু সুন্নি মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ইরাক ও প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ থেকে হেঁটে পবিত্র কারবালার দিকে যাত্রা করেন। ইকনা




























