লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ভেনেজুয়েলার উপর মার্কিন আগ্রাসন এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশটিতে গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক এবং আবাসিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করার নিন্দা জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করেছে—যা দেশটির বিরুদ্ধে সরাসরি আগ্রাসনের শামিল।
সংবাদ মাধ্যম আল মানার জানিয়েছে, লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ শনিবার এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট এবং অভূতপূর্ব লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও আবাসিক স্থাপনায় হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা একটি স্বাধীন দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদের সুস্পষ্ট ও নজিরবিহীন লঙ্ঘন—যা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অজুহাতে করা হয়েছে।
হিজবুল্লাহ আরও বলে, এই মার্কিন আগ্রাসন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আধিপত্যবাদী, অহংকারী ও দস্যুসুলভ নীতির নতুন প্রমাণ। বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার কোনো তোয়াক্কা না করেই তারা ‘জঙ্গলের আইন’ কায়েম করতে চাইছে এবং বিশ্বব্যবস্থার অবশিষ্ট কাঠামো ধ্বংস করে সেটিকে অর্থহীন করে তুলছে—যা দেশ ও জাতির জন্য কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণের উন্মাদনায় অব্যাহতভাবে আগ্রাসী নীতি অনুসরণ করছে—স্বাধীন দেশ ও জাতিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন এবং দেশগুলোর কাঠামো বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিচ্ছে। অথচ তারা ভ্রান্তভাবে বিশ্বে শান্তি, গণতন্ত্র ও জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার সমর্থনের দাবি করে।
হিজবুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত অপরাধী চেহারা আফগানিস্তান থেকে ইরাক, ইয়েমেন ও ইরান পর্যন্ত সর্বত্র উন্মোচিত হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি ও তা লালন-পালনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং তাদের সহযোগী হিসেবে ইসরায়েলের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করা হয়। এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এসব আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে লজ্জাজনক নীরবতা পালন করছে বলে অভিযোগ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আজকের আগ্রাসন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য মেনে না নেওয়া প্রতিটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের জন্য স্পষ্ট হুমকি।
হিজবুল্লাহ ভেনেজুয়েলার জনগণ, প্রেসিডেন্সি ও সরকারের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে জানায়, তারা এই মার্কিন আগ্রাসন ও হুমকি মোকাবিলা করবে এবং মুক্ত ভেনেজুয়েলান জনগণের ইচ্ছার কাছে তা পরাজিত হবেই। সংগঠনটি উল্লেখ করে, ভেনেজুয়েলা সব ধরনের আধিপত্য ও ঔপনিবেশিকতার বিরোধিতা করে এসেছে এবং ফিলিস্তিন ইস্যুসহ বিশ্বজুড়ে ন্যায়সংগত ও নিপীড়িত জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
একইসাথে সংগঠনটি ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে এই আগ্রাসনের নিন্দা করতে এবং দেশটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেখানকার জনগণের পাশে দাঁড়াতে বিশ্বের সব দেশ, সরকার, জাতি ও মুক্তচিন্তার গোষ্ঠীগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ইকনা



























