পবিত্র শবে-বরাত একটি মহিমান্বিত রাত। আরবিতে বলা হয় ‘লাইলাতুল বরাত’। হাদিসে শবে-বরাতকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্যরাত বলা হয়েছে। আমাদের দেশে এ রাতটি শবে-বরাত নামে অধিক পরিচিত। শবে-বরাত একটি পুণ্যময় রজনী। ইবাদতে প্রশান্ত হওয়ার রাত। ভেজা চোখে মোনাজাতে কাটানোর রাত। জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার রাত। চাওয়া-পাওয়ার রাত। মহিমান্বিত এ রাত অশেষ ফজিলতের।
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন: ইমাম বাকের (আ.) কে এই রাত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তরে বলেন: ১৫ই শাবানের রাত শবে কদরের পরে সবচেয়ে ফযিলতপূর্ণ রাত। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর অপার দয়ায় বান্দাদের চাহিদাকে পূর্ণ এবং তাদের কৃত গুনাহসমূহকে ক্ষমা করেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করো। কেননা এই রাত সম্পর্কে আল্লাহ শপথ করে বলেছেন: কোন ব্যাক্তি যদি এই রাতে দোয়া করে তার দোয়া কবুল হবে। তোমরা এই রাতে আল্লাহর কাছে এমনভাবে চাও যেন তোমাদের দোয়া কবুল হয়। এই রাতটি লাইলাতুল কদরের ন্যায় আরেকটি মহিমান্বিত রাত যা আমাদেরকে দান করা হয়েছে। কেউ যদি এই রাতে অবৈধ কিছু না চায় তাহলে আল্লাহ তার দোয়াসমূহকে কবুল করবেন।
১৫ই শাবানের রাতটি এমন এক রাত যা আল্লাহ তার বান্দাদেরকে দান করেছেন। এই রাতটি শবে কদরের ন্যায় ফযিলতপূর্ণ একটি রাত। সুতরাং তোমরা এ রাতে আল্লাহর ইবাদত কর এবং নিজেদের জন্য দোয়া কর।
এই রাতে করণীয় সম্পর্কে এরশাদ হয়েছে, হজরত আলী বিন আবু তালীব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, অর্ধ শাবানের রাত যখন হয়, তোমরা রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে পালন করো এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। কেননা, এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে এসে বলেন, কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছো কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। কোনো রিজিক অন্বেষণকারী আছো কি? আমি তাকে রিজিক প্রদান করবো। আছো কি কোনো রোগাক্রান্ত? আমি তাকে আরোগ্য দান করবো। এভাবে সুবহে সাদেক পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তাদের ডাকতে থাকেন। [সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৩৮৮]
লাইলাতুল বরাতে বিশেষ কিছু আমল বর্ণিত হয়েছে যেমন:
১. গোসল করা। এই রাতে গোসল করলে আল্লাহ তাঁর বান্দার গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দেন। নিয়ত: শবে বরাতের গোসল করছি কুরবাতান ইলাল্লাহ।
২. রাত্রি জাগরণ করা। এই রাতে নামাজ, দোয়া এবং ইস্তিগফারের মাধ্যমে অতিবাহিত করা উত্তম।
কেননা ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) বলেছেন: যে ব্যাক্তি এই রাতকে
ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করবে, কেয়ামতে যেদিন সকলের অন্তর মারা
যাবে আল্লাহ সেই ব্যাক্তির অন্তরকে জীবিত রাখবেন।
৩. ইমাম হুসাইন (আ.)-এর যিয়ারত পাঠ করা: যেই ব্যাক্তি এই রাতে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর যিয়ারত পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তার গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দিবেন।
আবু হামযা সোমালী (রহ.) বলেছেন: ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) বলেছেন: কেউ যদি এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবীদের সাথে করমর্দন করতে চায় তাহলে সে যেন ১৪ই শাবান দিবাগত রাতে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর কবর যিয়ারত করে। কেননা এই রাতে ফেরেশতা, রূহ এবং নবীগণ আল্লাহর কাছে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর কবর যিয়ারত করার অনুমতি প্রার্থনা করেন এবং আল্লাহও তাঁদেরকে যিয়ারতের অনুমতি দেন। সৌভাগ্যবান ব্যাক্তি হচ্ছে সেই যে, নবীদের সাথে করমর্দন করতে পারে, যাঁদের মধ্যে উলুল আযম নবীগণও রয়েছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেন তাঁদেরকে উলুল আযম নবী বলা হয়? তিনি বললেন: কারণ তাঁরা নিজেদের যুগে সারা বিশ্বের সকল জ্বিন ও মানব জাতীর জন্য নবুওয়াত প্রাপ্ত হয়েছিলেন।
মাবিয়া বিন ওহাব থেকে বর্ণিত, ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন: যারা প্রথম শাবানে কারবালাতে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর যিয়ারতের জন্য যায় তারা যেন ১৫ই শাবান লাইলাতুল বরাতে সেখানে উপস্থিত থাকে। কারণ তোমরা যদি জানতে যে, সেই দিনের যিয়ারতের কি ফযিলত রয়েছে তাহলে তা কখনও বাদ দিতে না বরং আগামী বছর পর্যন্ত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর কবরের কাছে এই রাতটির অপেক্ষা করতে।যেই ব্যাক্তি এই রাতে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর যিয়ারত পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তার গুনাহকে ক্ষমা করে দিবেন।



























