ইসলামি জীবনব্যবস্থা বাস্তবায়ন ও প্রকৃত সফলতা অর্জনে কোরআনে বর্ণিত তিনটি মূলনীতি—তাকওয়া, তাওয়াসসুল এবং আল্লাহর পথে চেষ্টা—অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইরানের বিশিষ্ট আলেম ও অধ্যাপক হোজ্জাতোলেসলাম ওয়ালমুসলিমিন নাসের রাফিয়ী।
সোমবার বিকেলে ইমামজাদাহ শাহ সাইয়্যেদ আলী (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ইসলামি জীবনধারা বিষয়ক প্রশিক্ষক সক্ষমতা উন্নয়ন কোর্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক রাফিয়ী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর রমজানবিষয়ক বিখ্যাত খুতবার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, রমজান আত্মিক পরিশুদ্ধির বিশেষ সুযোগ। এ মাসে মানুষের স্বাভাবিক কাজও ইবাদতের মর্যাদা লাভ করে। তিনি জানান, ওই খুতবায় উত্তম চরিত্র গঠন, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, দরিদ্রদের সহায়তা এবং ইন্দ্রিয় সংযমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ)-এর এক প্রশ্নের জবাবে নবী করিম (সা.) রমজানের শ্রেষ্ঠ আমল হিসেবে গুনাহ থেকে বিরত থাকাকে উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক রাফিয়ী বলেন, ‘ফালাহ’ অর্থ প্রকৃত সফলতা ও মুক্তি। তিনি পবিত্র কুরআন -এর সূরা মায়েদার ৩৫ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, সফলতার জন্য তিনটি বিষয় অপরিহার্য—তাকওয়া, আল্লাহর নৈকট্যের উপায় অনুসন্ধান (তাওয়াসসুল) এবং আল্লাহর পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকওয়া মানুষের জীবনে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো কাজ করে। এটি কেবল ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং লেনদেনে সততা, নৈতিকতা, অন্যের অধিকার রক্ষা এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকার মধ্যেও প্রতিফলিত হয়।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহর স্মরণ, নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়, নিজের ভুল স্বীকার এবং সৎকর্মের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে। পাশাপাশি জিহাদ বা প্রচেষ্টা বলতে তিনি জ্ঞানচর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও আদর্শবান মানুষ গড়ে তোলার প্রয়াসকে বোঝান।
মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গঠনে প্রশিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই তিন নীতিকে সামনে রেখে কাজ করলে ইসলামি জীবনধারা প্রতিষ্ঠা এবং আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। ইকনা



























