যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের প্রভাবে আরব দেশগুলো বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বলছে, এ যুদ্ধের কারণে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আরব বিশ্বের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, লাখো মানুষ দারিদ্র্যে পড়তে পারে এবং বেকারত্ব বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার ভোরে প্রকাশিত সংস্থাটির এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া চার সপ্তাহব্যাপী একটি যুদ্ধ পরিস্থিতির মডেল ধরে এ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, এমনকি সীমিত মাত্রার সংঘাত হলেও বাণিজ্য, জ্বালানি ও আর্থিক খাতের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সংঘাতের ফলে আরব দেশগুলোর মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন ৩.৭ থেকে ৬.০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা অর্থমূল্যে প্রায় ১২০ বিলিয়ন থেকে ১৯৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সমান।সংঘাতের কারণে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় রফতানি ও আমদানি উভয়ই হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উচ্চমাত্রার সংঘাতের পরিস্থিতিতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে লেভান্ত অঞ্চল ও দুর্বল দেশগুলো- যেমন সুদান ও ইয়েমেন- এ প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করবে।এদিকে বেকারত্বও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ২৫ লাখ থেকে ৩৫ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারে এবং কম দক্ষ শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ক্ষেত্রে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ ৪.৫ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
এ অর্থনৈতিক ধাক্কার মূল কারণ হিসেবে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নকে দায়ী করা হয়েছে। এর ফলে খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিশেষ করে আমদানি-নির্ভর অর্থনীতিগুলোতে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে।অঞ্চলভেদে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। উপসাগরীয় ও লেভান্ত অঞ্চলের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে, অন্যদিকে উত্তর আফ্রিকার কিছু দেশ উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে কিছুটা সুবিধা পেতে পারে।
প্রতিবেদনটি আরো জানায়, এই পরিস্থিতিতে মানব উন্নয়ন সূচক হ্রাস পেতে পারে এবং কিছু দেশে এক বছরের অগ্রগতি পিছিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব কমে যাওয়া এবং বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশগুলোর পক্ষে এই সংকট মোকাবেলা করা আরো কঠিন হয়ে পড়বে।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিও রয়েছেন।এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরাইলের পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এতে হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া, ইরান কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে তেহরানের অনুমতি ছাড়া ওই পথে চলাচলকারী কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড।



























