জামালউদ্দিন বারী : মধ্যস্থতাকারিদের সহায়তায় আলোচনা বা কূটনৈতিক দরবষাকষি চলা অবস্থায় হঠাৎ আলোচনা ভেঙ্গে দিয়ে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল-আমেরিকা যৌথ বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করে। একই হামলায় মিনাবে একটি স্কুলে বোমা মেরে প্রায় ২শ শিশুকে হত্যা করা হয়। তারা ইরানকে গাজার মত ধ্বংসস্তুপ ও মৃত্যুপুরিতে পরিনত করার বার্তা দিয়ে ইরানের বিপ্লবী সরকারকে আত্মসর্মপণে বাধ্য করবে এবং রিজিম বদলের মধ্য দিয়ে ইরানের তেলসম্পদের দখল করে নেবে, এমনটাই তাদের পরিকল্পনা ছিল। কিছুদিন আগেই ভেনিজুয়েলায় মার্কিন ডেল্টাফোর্স কমান্ডোদের দিয়ে নিকোলাস মাদুরোকে আমেরিকায় ধরে নিয়ে বিচারের সম্মুখীনই শুধু করেনি, ডোনাল্ড ট্রাম্প উদ্ধত ভঙ্গিতে ঘোষনা দিয়েছিলেন, এখন থেকে তিনি ভেনিজুয়েলা শাসন করবেন এবং ভেনিজুয়েলার তেল বিক্রি করবেন। ভেনিজুয়েলায় মার্কিন বশংবদ সেনা কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বশীভুত করে তিনি তা করতে সক্ষমও হচ্ছেন। প্রায় একই রকম ঘটনা ১৯৫২ সালে ইরানেও ঘটিয়েছিল ইঙ্গ-মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এবারো ইরানে তার পুনরাবৃত্তির মহড়া চালানো হয়েছে। ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে শত শত কোটি ডলার খরচ করা, মোসাদের তত্ত্বাবধানে রিজিম বিরোধী বিক্ষোভকারী ও কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গেরিলাদের হাতে হাজার হাজার অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্রশস্ত্র তুলে দেয়া হয়েছিল। এটি কোনো অসমর্থিত অভিযোগ নয়। যুদ্ধের এক পর্যায়ে ইসপাহান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তুলে নিতে মার্কিন ডেল্টা ফোর্স ভেনিজুয়েলা স্টাইলে শতাধিক যুদ্ধ বিমান ও কমব্যাট হেলিকপ্টার নিয়ে এক দূর্ধর্ষ অভিযান চালাতে এসে অনেকগুলো বিমান, হেলিকপ্টার ও সেনা সদস্য খুইয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এই ব্যর্থ অপারেশনের খেদ প্রকাশ করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সরকার বিরোধিদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়ার ঘটনা এবং সেই অস্ত্রের নল আমেরিকানদের দিকে ঘুরে যাওয়ার বাস্তবতা গণমাধ্যমে ফাঁস করে দিয়েছেন। ইরানে সরকার বিরোধিদের মাধ্যমে ইসরাইল-আমেরিকান যুদ্ধবাদিদের অর্জনও নেহাত কম নয়। গত বছর জুনমাসে ১২ দিনের যুদ্ধের আগে সেখানে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ-সমাবেশ আয়োজনের নামে এক ধরণের মব সন্ত্রাস সৃষ্টি, যুদ্ধের প্রথম আঘাতে ইরানের বেশ কিছু সামরিক বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা ও নাশকতার ঘটনার সাথে মোসাদের এজেন্ট ও অপারেটিভদের ভূমিকা ধরা পড়েছিল। মোসাদের কয়েকশ এজেন্ট তাদের নজরদারি যন্ত্রপাতি ও ড্রোনসহ ইরানি গোয়েন্দা জালে ধরাও পড়েছিল। সম্ভবত: এই গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে পুঁজি করেই ইসরাইল-আমেরিকা ইরানে রেজিম বদল ও পারমানবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে চুড়ান্ত হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ১২ দিনের যুদ্ধে একদিকে ইসরাইলের মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়, অন্যদিকে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাটিতে মিসাইল হামলা করে তা গুড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে আমেরিকা যে বার্তা পেয়েছিল, তাতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, প্রকারান্তরে পিছু হটা ছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে কোনো বিকল্প ছিল না।
বারোদিনের যুদ্ধের গ্লানিকর পরিসমাপ্তি নেতানিয়াহু মেনে নিতে পারেনি। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ শীর্ষ নেতাদের ডিক্যাপিচুলেশন বা হত্যার মাধ্যমে রিজিম বদলের ফর্মূলা দিয়ে ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ইরানের প্রকৃত শক্তি, সক্ষমতা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে ভালোমত না জেনে নিজের আত্মম্ভরিতার উপর ভর করে ভয়ঙ্কর যুদ্ধে নেমে পড়ার অপরিনামদর্শিতার খেসারত দিতে হচ্ছে আমেরিকাকে। শীর্ষ নেতা অ্যাসাসিনেশন বা ডিক্যাপিচুলেশন ফর্মূলা যে তাদের জন্য বুমেরাং হতে পারে সে ধারণা ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ছিল না। আদতে তাই ঘটেছে। ইমাম আয়াতুল্লাহ খামেনি পারমানবিক বোমার বিরুদ্ধে দেয়া ফতোয়া বহাল রেখেছিলেন। ইসরাইলের ধারাবাহিক হুমকি, টার্গেটেড কিলিং এবং পশ্চিমা অবরোধ-নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চার দশক ধরে কৌশলগত সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছিলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি। তাকে হত্যা করে ইরানের সাথে ইসরাইল-আমেরিকার যুদ্ধ ও বৈরীতা এক নতুন যুগে ও নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করে। এর মধ্য দিয়ে ইরানের আইআরজিসি প্রতিরোধের শক্তিকে রক্ষণশীলতা থেকে আক্রমণাত্মক ধারায় পরিচালিত করতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন রাডার সিস্টেম, বিমান প্রতিরক্ষা ও বিমান ঘাটিগুলোকে মিসাইল হামলা করে ধ্বংসস্তুপে পরিনত করেছে ইরান। বিপুল রণদামামা বাজিয়ে আটলান্টিক, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের প্রান্ত থেকে গর্জন করতে করতে আসা অজেয় বলে বিবেচিত বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন, জেরাল্ড ফোর্ড, ত্রিপলির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ করে দিয়ে মিসাইল হামলায় মার্কিনীদের এসব সামরিক গর্বকে ভস্মিভ’ত করে দিয়েছে আইআরজিসি। পশ্চিমা অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সব হুমকি ও আস্ফালন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলে শত্রু-মিত্র সব পক্ষের দ্বারস্থ হয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় আবারো অনেকটা বাধ্য হয়েই যুদ্ধবিরতি করে ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ বিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে দুই পক্ষের দাবি ও শর্তগুলো নিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর বিশ্বে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা ও উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। যুদ্ধবিরতির আগে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের সভ্যতা চিরতরে ধ্বংস করে দেয়ার চুড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কার্যত ইরানকে পারমানবিক হামলার হুমকি দিয়ে ভয় পাইয়ে দেয়ার চেষ্টাও সফল হয়নি। যে ইরান ৪৭ বছর ধরে পশ্চিমা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও হুমকি মোকাবেলা করে আজকের অবস্থান এসেছে, যুদ্ধের বাস্তবতায় ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের একমাসের অবরোধও বহন করতে পারছে না পশ্চিমা বিশ্ব। বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির চালিকা শক্তির এক বড় অংশের নাটাই যে ইরানের হাতে, যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি বন্ধের আগ পর্যন্ত বিশ্বের সাধারণ মানুষের কাছে ততটা স্পষ্ট ছিল না।
ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেয়ার সর্বশেষ আস্ফালনের পর ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা নিয়ে ইরান তেমন আশাবাদি ছিল না। তথাপি তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো সামনে রেখে মার্কিনীদের সাথে আলোচনার টেবিলে বসেছিল তারা। অন্যদিকে অগোছালো, অপ্রস্তুত ও গোয়ার্তুমি নির্ভর মার্কিন আলোচকরা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জন করতে ব্যর্থ কৌশলগত অর্জন তারা আলোচনার টেবিলে শর্ত দিয়ে আদায় করে নেয়ার ব্যর্থচেষ্টা করে ওয়াশিংটনে ফিরে গেছেন।অর্থনৈতিক ও সামরিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ইরান আমেরিকার যুদ্ধকে এসিমেট্টিক বা অপ্রতিসাম্য বলে অভিহিত করা হয়েছে। ইরানের অ্যাসিমেট্টিক যুদ্ধকৌশলের কাছে ইসরাইল-আমেরিকার গতানুগতিক যুদ্ধ কৌশলের পরাজয়ের পর ইরানিদের ঐতিহ্যগত জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী কূটনৈতিক কৌশলের কাছে হেরে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা। ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় প্রতিনিধি প্রেরণের ক্ষেত্রেও ট্রাম্প ন্যুনতম দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেননি। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও চলমান যুদ্ধের মূল অনুঘটক হিসেবে যদি ট্রাম্প প্রশাসনের কাউকে চিহ্নিত করা হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনারের নাম আসবে। তিনি নেতানিয়াহুর বশংবদ একজন জায়নিস্ট। তার পরামর্শেই প্রথম দফা প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ট্রাম্প ইরানের সাথে ৬ জাতির পারমানবিক সমঝোতা চুক্তি ভেঙ্গে দেন, টু-স্টেট সলিউশন নীতির অনুসরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বসম্প্রদায়ের সাথে একাত্ম হয়ে জেরুজালেমের বিশেষ অবস্থানকে স্বীকার করে নিলেও ট্রাম্প সে অবস্থান থেকে সরে গিয়ে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সেখানে মার্কিন দূতাবাস প্রতিষ্ঠা করেছিল। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিকে অগ্রাহ্য করে আরবদের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার টোপ হিসেবে তথাকথিত আব্রাহাম অ্যাকর্ড ও ডিল অব দ্য সেঞ্চরির ফর্মূলাও ছিল জারেড কুশনারের মাধ্যমে ইসরাইলের। ইরানের শর্ত মেনে যুদ্ধ বিরতি মেনে নিতে পারেননি নেতানিয়াহু জারেড কুশনারের মাধ্যমে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেস্তে দিতে পারা নেতানিয়াহুর একটি অপরিনামদর্শি সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে বাগের গালিবফ, আব্বাস আরাঘচি ও আইআরজিসি প্রতিনিধিদের প্রতিপক্ষ হিসেবে জেডি ভ্যান্স, উইটকফ ও জারেড কুশনারদের যোগ্যতা-দক্ষতার অবস্থানের কোনো তুলনা হয়না। জায়নবাদী মতাদর্শপন্থী এসব লোকদের পাল্লায় পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থান এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। মোদ্দা কথা হচ্ছে, ইরান যুদ্ধের মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবাদী অর্থনৈতিক সা¤্রাজ্যবাদের পতনের ঘন্টা বেজে গেছে। এ থেকে উত্তরণের আর কোনো পথ খোলা নেই।
ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সাথে মার্কিনীদের তাৎক্ষনিক কোনো নিরাপত্তা বা বড় কোনো স্বার্থহানির সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ইরানের অস্থিত্বের মূলে আঘাত করতে উদ্ধত হয়েছে। যুদ্ধের শুরুতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনশতাধিক সাবেক ও বর্তমান সামরিক কর্মকর্তা ট্রাম্পের অপরিনামদর্শি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে টাম্পের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা কর্নেল ডগলাস ম্যাকগ্রেগরও রয়েছেন। ম্যাকগ্রেগর সম্প্রতি নরওয়েজিয়ান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পডকাস্ট হোস্ট গ্লেন ডাইসেনের সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারে ডগলাস ম্যাকগ্রেগর বলেছেন, ইরান যুদ্ধে এরই মধ্যে ন্যাটো জোট, গাল্ফ স্টেটস, ইসরাইল এবং মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদের পতন ঘটে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ জয়ের গল্প, একেকবার একেক রকম বক্তব্য আসলে নিজ দেশের জনমত এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বে নিজের মুখ রক্ষার ব্যর্থ চেষ্টা বলে মনে করছেন সাবেক এই মার্কিন ডিফেন্স এডভাইজার। গ্লেন ডেইসেনকে এই সাক্ষাৎকার দেয়ার চারদিন পর প্রকাশিত অন্য এক মন্তব্য কলামে ডগলাস ম্যাকগ্রেগর বলেছেন, ‘ওয়ার উইদ ইরান ইজ অ্যা ফেইলিউর অব ইমাজিনেশান’ । ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজয়ের স্বপ্নকে তিনি এক অসম্ভব কল্পনা বলে অভিহিত করেছেন। ইরানের সাথে চল্লিশ দিনের যুদ্ধে সামরিক-অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সত্তর-আশি বছরের সব অর্জন ভূমধ্যসাগরের নোনা জলে এবং এবং ইরানের মরুভূমিতে তলিয়ে গেছে। ইসলামাবাদে একুশ ঘন্টার মুখোমুখি আলোচনায় ইরানকে তার অবস্থান থেকে এতটুকু টলানো যায়নি। প্রায় ৫ দশক ধরে অবরোধ করে রাখা ইরানি রেজিমের কাছে সামরিক, অর্থনৈতিক, ক’টনৈতিক ও কৌশলগতভাবে একটি চাক্ষুষ পরাজয়ের গ্লানি থেকে মুখ রক্ষা করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অযোগ্য শাসকদের ব্যর্থতা ক্রমেই ঘনীভূত হয়ে চলেছে। আমেরিকার সাধারণ নাগরিক এবং সামরিক-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ আমেরিকার স্বার্থে আমেরিকার যুদ্ধ নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রভাবে ও প্ররোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে জড়িয়েছেন। স্বল্প কয়েকদিনের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মাধ্যমে ইরানের রেজিম বদল, তেলক্ষেত্রগুলো দখল এবং গাজা ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদি দখলদারিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু যুদ্ধ শুরু করলেও মাত্র ৪০ দিনেই তারা সাত দশকে অর্জিত প্রায় সবকিছুই হারিয়েছে। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক-অর্থনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যা, সন্ত্রাস ও মানবতাবিরোধ অপরাধের অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হয়ে দেশটি এখন কার্যত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন, দেউলিয়া এবং অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। অতীতের তিনটি আরব-ইসরাইল যুদ্ধে পশ্চিমাদের হিপোক্রেসি, আরবদের বিভক্তি ও পরনির্ভরশীলতা ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ইসরাইল নতুন নতুন আরব ভূমির উপর দখলদারিত্ব কায়েম করেছিল। এবারের যুদ্ধে আমেরিকা ইসরাইল পরাজিত হলেও তাদের প্রোপাগান্ডা মিডিয়া ইরানের ধ্বংস এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়ের কল্পচিত্র প্রকাশ করছে। লেবাননে মাত্রাহীন বিমান হামলা চালিয়ে নতুন জমি দখল করে তা আয়ত্বে নিয়ে যুদ্ধে ইসরাইলকে বিজয়ী দেখানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু ইরানের আইআরজিসি হিজবুল্লাহ ও লেবাননের পাশে থাকার সংকল্প প্রকাশ করেছে। লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন ও দখলদারিত্ব কায়েমের ঔদ্ধ¡ত্য থেকে বিরত রাখতে ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে মিশর, জর্ডান, সিরিয়া সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে অতীতের পরাজয়ের গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সম্পদ রক্ষা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আঞ্চলিক ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ইনবিলাব।




























