রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর গুরুতর প্রভাব পুরো বিশ্বকে বহন করতে হবে। তিনি বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ তত বাড়বে। একই সঙ্গে তিনি এই সংকট দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানী মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, “এই সংঘাত চলতে থাকলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, মস্কো এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়। এ কারণেই রাশিয়া একদিকে তেহরান, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান সংকট “যত দ্রুত সম্ভব” শেষ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পুতিন আরও বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রাশিয়ায় স্থানান্তর ও সংরক্ষণের বিষয়ে মস্কো প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতেও রাশিয়া একই ধরনের ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময় রাশিয়া ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ নিজেদের কাছে সরিয়ে নিয়েছিল। প্রয়োজনে সেই অভিজ্ঞতা আবারও কাজে লাগানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পুতিনের দাবি, একসময় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই ইরানের বাইরে ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের বিষয়ে একমত হয়েছিল। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান কঠোর করে জানায়, ইউরেনিয়াম শুধু মার্কিন ভূখণ্ডেই নেওয়া হবে। এর পরই ইরানও নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করে বলে জানান তিনি।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তবে পশ্চিমা দেশগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তেহরান অবশ্য এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই অবস্থান একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কূটনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ। একই সঙ্গে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণেও মস্কো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চাইছে। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই



























