মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসননীতি নিয়ে জনসমর্থনে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসন ইস্যুতে তার পদক্ষেপকে সমর্থনকারী মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জরিপটি পরিচালনা করেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ।
রোববার (২ আগস্ট) প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ৩৯ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক ট্রাম্পের অভিবাসনবিষয়ক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে এই হার ছিল ৪৯ শতাংশ। একই সঙ্গে জরিপে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ মনে করেন, বৈধ অভিবাসন সীমিত করা এবং অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে ট্রাম্প অতিরিক্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
তবে রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের অবস্থান এখনো শক্তিশালী। জরিপে দেখা যায়, প্রতি ১০ জন রিপাবলিকান সমর্থকের মধ্যে প্রায় ৮ জন তার অভিবাসননীতিকে সমর্থন করছেন। যদিও দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে এই হার ছিল প্রায় ৯ জন।
.জরিপে আরও উঠে এসেছে, ট্রাম্পের জন্য অভিবাসন ইস্যু অর্থনীতি বা ইরান-সংক্রান্ত নীতির চেয়েও বেশি রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। রিপাবলিকান ভোটাররাও অর্থনীতি বা পররাষ্ট্রনীতির তুলনায় অভিবাসন ইস্যুতে তার অবস্থানকে বেশি সমর্থন করেছেন।
এদিকে সাম্প্রতিক পলিটিকো জরিপে দেখা গেছে, নিজেদের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মেগা) সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভোটারদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মনে করেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অর্থনৈতিক মূল্য পরিশোধ করা যৌক্তিক ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্পের মূল সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যেও কিছুটা মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, বৈধ অভিবাসন সীমিত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প ‘অনেক বেশি বাড়াবাড়ি’ করেছেন। একইভাবে ৪৭ শতাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রেও তিনি তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। তবে খুব কমসংখ্যক রিপাবলিকান এ মূল্যায়নের সঙ্গে একমত।
অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে। জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ৩২ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক তার অর্থনৈতিক নীতিকে সমর্থন করছেন। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন ও অর্থনীতি—দুই ক্ষেত্রেই জনসমর্থনের এই পতন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, যদিও রিপাবলিকান সমর্থকদের বড় অংশ এখনো তার পাশে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা




























