পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে আফগান সীমান্তের ঘেঁষা এলাকায় আবারও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় কমপক্ষে ছয়জন পুলিশ সদস্য নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনা ঘটেছে সোমবার (১২ জানুয়ারি)। প্রথম বিস্ফোরণটি ট্যাংক জেলায় গোমাল বাজার সড়কে একটি সাঁজোয়া পুলিশ যানকে লক্ষ্য করে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই ছয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। একই দিনে লক্ষ্মী মারওয়াত জেলায় একটি পুলিশ ভ্যান লক্ষ্য করে স্থাপিত বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে আরও তিনজন পুলিশ আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। তিনি বলেন, “খাইবার পাখতুনখাওয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রচেষ্টাকে আমরা প্রশংসার চোখে দেখি।” একই সঙ্গে প্রদেশের পেশোয়ার, বান্নু ও খাইবার জেলায় পৃথক অভিযানে অন্তত আটজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগ (সিটিডি)। এছাড়া বেশ কয়েকটি নাশকতার পরিকল্পনাও ভেস্তে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এখনও কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি। তবে গত বছরের অক্টোবরেও সীমান্ত এলাকায় হামলার ঘটনায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষে বহু সেনা ও সন্ত্রাসী সদস্য নিহত হয়।
পাকিস্তান অভিযোগ করছে, দেশটির অভ্যন্তরে হামলা চালানো সন্ত্রাসী সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) আফগানিস্তান থেকে আশ্রয় নিয়ে এই হামলাগুলো সংঘটিত করছে। পাকিস্তানের দাবি, ভারত এই সংগঠনকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে। তবে আফগান তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ঘটনাটি পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের হামলা সীমান্তবর্তী অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি।
এই হামলার পর স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের তল্লাশি এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে। প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য নাশকতাকে প্রতিরোধ করা যায়।
পাশাপাশি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধের জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে যৌথ অভিযান এবং গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদী হামলার কেন্দ্রবিন্দু। নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত অভিযানে থাকলেও সীমান্তের দুরবস্থা এবং সংখ্যালঘু পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা পুনরায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি



























