লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিশ্বের বৃহত্তম ইফতার মাহফিল আয়োজনের মাধ্যমে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার ৮০০ মানুষ এ ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইফতার আয়োজনের মাধ্যমে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে লেবানন। রাজধানীর বিআইইএল (BIEL) ভেন্যুতে এ আয়োজন করে আজিয়ালনা সোসাইটি।
সংগঠনটির প্রতিনিধি ফেদি সুয়াইদ রমাদান সাংবাদিকদের জানান, আজিয়ালনা সোসাইটি লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে দাতব্য ও সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এ বছরের লক্ষ্য ছিল পূর্ব থেকে পশ্চিম এবং উত্তর থেকে দক্ষিণ—সমগ্র লেবাননকে একটি টেবিলে একত্র করা।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামের সহায়তায় “আমরা এই ধারণাটি রূপ দিতে এবং এটি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হয়েছি। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন স্তরের মানুষ একই ধরণের খাবার একই টেবিলে বসে ইফতার করে বিশ্ববাসীকে এই বার্তা পৌঁছে দেন যে, আমরা এক কণ্ঠস্বর এবং এক হাত হতে পারি এবং কিছুই আমাদের আলাদা করতে পারবে না।”
রমাদান জানান, অংশগ্রহণকারীদের ৯০ শতাংশের বেশি ছিল এতিম শিশু এবং লেবাননের বিভিন্ন স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক। এছাড়া গাজা থেকে আগত ফিলিস্তিনি পরিবারসহ মোট প্রায় ৫ হাজার ৮০০ মানুষ এ ইফতারে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সারা লেবানন থেকে ৭০০ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেন।
রমজান ইসলামি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির নবম ও সবচেয়ে পবিত্র মাস। এ মাসেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। রমজান ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম রোজার মাস হলেও, এর তাৎপর্য কেবল পানাহার থেকে দূরে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন, ধৈর্যচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের এক অনন্য সুযোগ। মুহাম্মদ (সা.)-এর ঐতিহাসিক খুতবা আমাদের সামনে রমজানের প্রকৃত দর্শন ও উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। সেই ভাষণে তিনি রমজানকে এমন এক বরকতময় সময় হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা মানুষকে গুনাহমুক্ত জীবন, নৈতিক উৎকর্ষ ও আল্লাহর নৈকট্যের পথে পরিচালিত করে। তাই রমজান কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আত্মগঠন ও সমাজগঠনের এক মহাপরিকল্পনা।


























