পবিত্র রমজান মাসেও ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা। সোমবার তারা মসজিদের দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লিখে আগুন দিয়েছে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, উত্তর পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে সাররা ও তাল গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদে এ হামলা চালানো হয়।
এপির খবর অনুযায়ী, ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে এসে মুসল্লিরা মসজিদের প্রবেশদ্বারে ধোঁয়া ও আগুনের চিহ্ন দেখতে পান।
মসজিদের পাশেই মুনির রামদানের বাড়ি। তিনি বলেন, ‘আমি দরজা খুলে স্তম্ভিত হয়ে যাই। সেখানে আগুন জ্বলছিল, কাচ ও দরজা ভাঙা ছিল।’ মুনির আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুই ব্যক্তি পেট্রোল ও স্প্রে পেইন্ট নিয়ে মসজিদের দিকে যাচ্ছে এবং কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে দৌড়ে পালাচ্ছে।
হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য লিখে রেখে যায়। মসজিদ প্রাঙ্গণের তত্ত্বাবধানকারী ইসলামিক ওয়াকফ নিশ্চিত করেছে যে বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদটি পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
তেল গ্রাম পরিষদের প্রধান নায়ামান রমজান জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকাটি বারবার বসতি স্থাপনকারীদের হামলার শিকার হয়েছে। এদিকে ফিলিস্তিনের আওকাফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ২০২৫ সালেই বসতি স্থাপনকারীরা ৪৫টি মসজিদকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাদের মতে, এটি ফিলিস্তিনীদের ধর্মীয়স্থানগুলোর ওপর পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক হামলার প্রমাণ বহন করে।
গাজা উপত্যকার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা অব্যাহত সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ১ হাজার ৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস করার এসব কর্মকাণ্ড ‘জাতিগত নিধনের’ শামিল।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত বছর পশ্চিম তীরে মোট ৪৫টি মসজিদে হামলা হয়েছে।
ইকনা, আল জাজিরা



























