মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে চলমান সামরিক অভিযান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি সংকট তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই অভিযান অব্যাহত থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। বিষয়টি এখন ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম ম্যাগাজিন’–এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী কোনো সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। সেই সময়সীমা আগামী ১ মে শেষ হতে যাচ্ছে।
আইন অনুযায়ী, সামরিক অভিযান শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হয়। এরপর সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত তিনি একক সিদ্ধান্তে সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন। প্রয়োজনে আরও ৩০ দিন সময় বাড়ানো যায়, তবে তার জন্য কংগ্রেসকে লিখিতভাবে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে হয়।
ডেমোক্র্যাটদের দাবি, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও যদি অভিযান চলতে থাকে, তবে তা হবে অসাংবিধানিক ও বেআইনি। এ কারণেই তারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার স্পষ্ট কারণ ছাড়া এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই অভিযান অত্যন্ত জরুরি। তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের বিভাজনের কারণে নতুন অনুমোদন পাওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা ও কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলবে। বিশেষ করে ১ মে’র সময়সীমা পার হলে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে। ফলে ইরান ইস্যু এখন কেবল সামরিক নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।
অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখলেও ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ চালু রেখেছে। একই সঙ্গে আরব সাগরে ইরানি জাহাজ আটকের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট চাইলে অতীতে বিভিন্ন আইনি ব্যাখ্যা ব্যবহার করে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান চালিয়েছেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজন পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, এই যুদ্ধ প্রতি সপ্তাহে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, অথচ কার্যকর কংগ্রেসীয় নজরদারি নেই। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের একাংশও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
সব মিলিয়ে ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তথ্যসূত্র : তাস, আল-জাজিরা



























