এম এস ইসলাম: ১৫ই শাবান ইসলামের ইতিহাসে এক মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ রাত। এ রাত শুধু ইবাদত-বন্দেগির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি মানবজাতির ভবিষ্যৎ মুক্তির এক মহৎ আশার প্রতীক। এই পবিত্র রাতেই জন্মগ্রহণ করেন মানবতার শেষ ত্রাণকর্তা হযরত ইমাম মাহদী (আ.)—যাঁর আবির্ভাবের মাধ্যমে পৃথিবী থেকে জুলুম, বৈষম্য ও অন্যায় দূর হয়ে ন্যায়বিচার ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে ইসলামী বর্ণনাগুলোতে ঘোষণা এসেছে।
ইমাম মাহদী (আ.) হলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য এবং একাদশ ইমাম হযরত ইমাম হাসান আসকারী (আ.)–এর পুত্র। তাঁর জন্ম হয়েছিল ২৫৫ হিজরিতে ইরাকের পবিত্র সামেরা নগরীতে। আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি গায়েব বা অদৃশ্য অবস্থায় রয়েছেন, তবে ইসলামী আকীদা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে তিনি পুনরায় আবির্ভূত হবেন।
পবিত্র কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, এক সময় পৃথিবীর নেতৃত্ব দুর্বল ও নির্যাতিত মানুষের হাতে ন্যস্ত হবে। সূরা কাসাসের পঞ্চম আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন—তিনি মজলুমদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন এবং তাদেরকেই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী বানাবেন। এই ঐশী প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপই হবে ইমাম মাহদী (আ.)–এর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা।
হাদীস ও ইসলামী বর্ণনায় এসেছে, ইমাম মাহদী (আ.)–এর যুগ হবে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও কল্যাণকর সময়। সে যুগে দারিদ্র্য বিলুপ্ত হবে, পৃথিবীর বিরানভূমি আবাদ হবে এবং মানুষের মাঝে অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। শুধু তাই নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞান এমন পর্যায়ে উন্নীত হবে যে মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চা অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছাবে।
ইমাম মাহদী (আ.)–এর শাসনব্যবস্থা হবে বিশ্বব্যাপী। পৃথিবীর এমন কোনো অঞ্চল থাকবে না যেখানে আল্লাহর একত্ব ও রাসূল (সা.)–এর রিসালাতের সাক্ষ্য উচ্চারিত হবে না। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হবে এমন এক সমাজ, যেখানে মজলুম ন্যায়বিচার পাবে, ক্ষুধা ও বঞ্চনার অবসান ঘটবে এবং মানুষের প্রকৃত মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
ইসলামী বর্ণনায় আরও এসেছে যে, তাঁর আবির্ভাবের পর হযরত ঈসা (আ.) পুনরায় পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং ইমাম মাহদী (আ.)–এর নেতৃত্বকে সমর্থন করবেন। এই ঐতিহাসিক মিলনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে সত্য ও ন্যায় আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং মানবসভ্যতা একটি নতুন যুগে প্রবেশ করবে।
১৫ই শাবান তাই কেবল একটি জন্মদিন নয়; এটি আশার দিন, প্রতীক্ষার দিন এবং আত্মশুদ্ধির আহ্বান। এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অন্যায় চিরস্থায়ী নয়, ন্যায় অবশ্যম্ভাবী। মহান আল্লাহ যেন ইমাম মাহদী (আ.)–এর আবির্ভাব ত্বরান্বিত করেন এবং সকল মুসলমানকে তাঁর প্রকৃত অনুসারী হওয়ার তৌফিক দান করেন—এই হোক ১৫ই শাবানের মূল শিক্ষা। ইরনা, আইআরআইবি



























