ভ্যাটিকানের পোপ লিও চতুর্দশ যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এ প্রবণতাকে মানবসভ্যতার জন্য একটি “ধ্বংসাত্মক চক্র” হিসেবে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে শিগগিরই এআই বিষয়ক নতুন ভ্যাটিকান ইশতেহার প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ভ্যাটিকান সূত্র অনুযায়ী, “ম্যাগনিফিকা হিউম্যানিটাস” বা “মহিমান্বিত মানবতা” শীর্ষক এই নথিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার নিয়ে চার্চের অবস্থান তুলে ধরবে। এটি প্রকাশের আগেই সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন পোপ।
বিশ্বজুড়ে বর্তমানে সামরিক প্রযুক্তিতে এআই ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ও অস্ত্র ব্যবস্থায় এআই সংযুক্ত করার বিষয়ে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যানথ্রোপিক মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে তাদের এআই মডেল সামরিক কাজে ব্যবহারের বিষয়ে বিতর্কে জড়ায়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া প্রাণঘাতী সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।
এই পরিস্থিতিকে উল্লেখ করে পোপ লিও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের সিদ্ধান্তকে এআই দ্বারা প্রতিস্থাপন করা মানবিক মূল্যবোধের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে। তার মতে, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত অবশ্যই মানুষের হাতেই থাকা উচিত।
জাতিসংঘের বিভিন্ন পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজার কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এর অর্থনৈতিক মূল্য ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এই প্রবৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ সীমিত হাতে কেন্দ্রীভূত হলে বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও আগেই সতর্ক করে বলেছেন, এআই নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক নীতিমালা না থাকলে শান্তি ও মানবাধিকারের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পোপ লিও আরও বলেন, এআই-চালিত অ্যালগরিদম মানুষের চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানো জরুরি, যাতে মানুষ বুঝতে পারে কীভাবে প্রযুক্তি তাদের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করছে।
এর আগে জানুয়ারিতে তিনি চ্যাটবট ও এআই অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এপ্রিলে দেওয়া আরেক বক্তব্যে তিনি সতর্ক করেন, এআই সমাজে বিভাজন, সংঘাত এবং সহিংসতা বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভ্যাটিকানের আসন্ন “ম্যাগনিফিকা হিউম্যানিটাস” নথিটি প্রযুক্তি নীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক দিকনির্দেশনা হয়ে উঠতে পারে, যা অতীতে পোপ ফ্রান্সিসের জলবায়ু বিষয়ক ইশতেহার “লাওদাতো সি”-এর মতো বৈশ্বিক প্রভাব ফেলতে পারে। তথ্যসূত্র : দ্য স্ট্রেইট টাইমস, ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর



























