রাজধানী ঢাকার বিএমএ মিলনায়তনে শুক্রবার বিকেলে আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (আ.)-এর স্মরণে ‘বয়ানে ফাযায়েলে রজব ও জশনে মওলুদে কা’বা’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকাস্থ আল মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধির দপ্তর, বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটি, আল হাদি আন নাজিব ফাউন্ডেশন এবং ইন্সটিটিউট অব হিউম্যান সাইন্স রিসার্স-এর যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সভায় উপস্থিত বক্তারা হযরত আলী (আ.)-এর আকাশচুম্বী মর্যাদা, অগাধ জ্ঞান এবং ইসলামের ইতিহাসে তার সাহসী ভূমিকার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বলেন, ইসলামের ইতিহাসে রাসূলে খোদার পর ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং জ্ঞান-গবেষণার ক্ষেত্রে হযরত আলী (আ.)-এর প্রচেষ্টা এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান এবং ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেযা মীর মোহাম্মাদী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক খতিব মাওলানা ড. সৈয়দ এমদাদ উদ্দনি নিজামপুরী, মহাখালী দারুল উলুম হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম আল-মারুফ এবং বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটির সহ-সভাপতি হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ আফতাব হোসাইন নাকাভী।
এ ছাড়াও ইন্সটিটিউট অব হিউম্যান সাইন্স রিসার্স-এর পরিচালক ড. এ কে এম আনোয়ারুল কবীর, বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটির সেক্রেটারী জেনারেল ড. এম আব্দুল কুদ্দুস বাদশা এবং আলী ইবনে আবি তালিব ইসলামিক ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল হুজ্জাতুল ইসলাম মোহাম্মদ আলী মূর্তজা তাদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাসূলে আকরাম (সা.) ইসলামিক ইন্সটিটিউট-এর প্রিন্সিপাল ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দন।

বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জামাতা ও চাচাতো ভাই আলী (আ.) ছিলেন বীরত্ব, মহানুভবতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। হযরত আলী (আঃ) ছিলেন সেই ব্যক্তিত্ব যার সম্পর্কে রাসূলে পাক (সাঃ) বলেছেন, মুসার সাথে হারুনের যে সম্পর্ক তোমার সাথে আমার সেই সম্পর্ক, শুধু পার্থক্য হল হারুন (আঃ) নবী ছিলেন, তুমি নবী নও। আলী (আ.) এমন এক ব্যক্তিত্ব যাঁর নাম উচ্চারণ ও যাঁর বরকতময় জীবনের আলোচনা মানুষের ঈমানকে তাজা করে দেয়। বিশ্বনবী (সা) বলেছেন, আমি জ্ঞানের নগরী আর আলী তার দরজা। অর্থাৎ বিশ্বনবী (সা)’র জ্ঞানের শহরে কেবল হযরত আলী (আ)’র মাধ্যমেই প্রবেশ করা সম্ভব। হযরত আলী (আ) নিজেও বলতেন, কুরআনের এমন কোনো আয়াত নেই যে বিষয়ে আমি রাসূল (সা)’র সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করিনি। বলা হয় বিশ্বনবী (সা) আলী (আ)-কে এক হাজার বিষয় বা অধ্যায়ের জ্ঞান শিখিয়েছিলেন। আর এসবের প্রত্যেকটির ছিল এক হাজার শাখা।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরও গুরুত্বারোপ করেন যে, হযরত আলী (আ.)-এর ব্যক্তিত্ব ও জীবনদর্শন কেবল মুসলিম কবি বা সাহিত্যিকদেরই নয়, বরং অমুসলিম পণ্ডিত ও মনীষীদেরও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। তার চরিত্রের বিশালতা ও মহত্ত্ব দেখে বিশ্বের বড় বড় চিন্তাবিদ ও গবেষকরা অভিভূত হয়েছেন।
বক্তারা মনে করেন, বর্তমান সময়ে হযরত আলীর বরকতময় জীবনের আদর্শ অনুসরণ করা মানুষের ঈমানকে মজবুত করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। অনুষ্ঠানের সুফিতান সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী লিটন হাফিজ ও তার দল।



























