এখন চলছে পবিত্র শাবান মাস—রমজানের প্রস্তুতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইসলামে শাবান মাস একটি ফজিলতপূর্ণ ও মর্যাদাবান মাস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই মাসেই ইসলামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের প্রায় দেড় বছর পর মুসলমানদের কিবলা পরিবর্তনের ঘোষণা আসে। পূর্বতন কিবলা ফিলিস্তিনের মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাসের পরিবর্তে মক্কার পবিত্র কাবা ঘর তথা বাইতুল্লাহ শরিফকে স্থায়ী কিবলা হিসেবে নির্ধারণ করা হয় শাবান মাসেই।
শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত মুসলিম বিশ্বে ‘শবে বরাত’ নামে পরিচিত। ফারসি ভাষায় ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বারাআত’ অর্থ মুক্তি। এ হিসেবে শবে বরাত অর্থ মুক্তির রাত। আরবি ভাষায় একে বলা হয় ‘লাইলাতুল বারাআত’। হাদিস শরিফে এই রাতকে ‘নিসফে শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্যরজনী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শবে ক্বদরের পরেই যে রাতটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ তা হলো পবিত্র ‘লাইলাতুল বারাআত’। এই মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট আলেম মাওলানা সাইয়্যেদ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী বলেন, শাবান মাসকে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের মাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ইমাম জাফর সাদিক (আ.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রাসুল (সা.) শাবান মাসের চাঁদ দেখলে মদিনাবাসীদের উদ্দেশে ঘোষণা দিতেন—“জেনে রাখো, শাবান আমার মাস। যে ব্যক্তি এ মাসে রোজা রাখবে, তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হবে।”
নবী করিম (সা.) বলেছেন, “শাবান আমার মাস। যে ব্যক্তি এই মাসে একটি রোজা রাখবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
হাদিসে আরও এসেছে, ইমাম হজরত আলী (আ.) বলেছেন, রাসুল (সা.)-এর এই ঘোষণার পর তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শাবান মাসের রোজা কখনো ত্যাগ করেননি।
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) থেকে বর্ণিত হাদিসে শাবান মাসের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে—যে ব্যক্তি শাবান মাসের প্রথম দিনে একটি রোজা রাখবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হবে। যে ব্যক্তি দুই দিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তাআলা দিবারাত্র তার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দান করবেন। আর যে ব্যক্তি তিন দিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তাকে নিজের আরশের নিকট স্থান দেবেন ও জান্নাত দান করবেন।
অন্য এক বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি শাবান মাসে একটি রোজা রাখবে, কেয়ামতের দিন আমি তার জন্য শাফাআত করব। যে দুটি রোজা রাখবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে তিনটি বা তার বেশি রোজা রাখবে, তার সব গুনাহ মাফ করে দেওয়ার ঘোষণা আসমান থেকে আসবে।”
এ বিষয়ে ইমাম আলী রেজা (আ.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি শাবান মাসের শেষ তিন দিন রোজা রেখে তা রমজানের রোজার সঙ্গে মিলিয়ে নেবে, আল্লাহ তাআলা তাকে পরপর দুই মাস রোজা রাখার সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন।
মাওলানা সাইয়্যেদ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী বলেন, শাবান মাস মূলত আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ইবাদতের মাধ্যমে রমজানের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ মাসকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত লাভ করা সম্ভব।



























