কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় অবস্থিত “লিটল মেমোরাইজার্স” একাডেমিতে শিশুদের কুরআনের অক্ষর শেখানোর জন্য একটি শিক্ষামূলক কর্মসূচি শুরু হয়েছে।এই কর্মসূচির আওতায় কুরআন শিখছে “লিটল মেমোরাইজারস” একাডেমির শিশুরা । মুসলিমসআরাউন্ডদ্যওয়ার্ল্ড ওয়েবসাইট জানিয়েছে, আনন্দ এবং শিক্ষার সমন্বয় ঘটায় এমন উদ্ভাবনী পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুদের মনে পবিত্র কুরআনের প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করাই এই অগ্রণী শিক্ষামূলক উদ্যোগের লক্ষ্য ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিটল মেমোরাইজার্স একাডেমির দুই শিক্ষিকা ফাতিমা নিতাই এবং রেনিতা নিতাই প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ইন্টারেক্টিভ কার্যকলাপ উপস্থাপন করেন। এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হল ব্যবহারিক ও আকর্ষণীয় পদ্ধতিতে কুরআনের অক্ষর সম্পর্কে শিশুদের জ্ঞান দৃঢ় করা।
কসোভোর ইসলামিক সোসাইটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই একাডেমিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রতিযোগিতাভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যা শিশুদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তি উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
শিশুদের জন্য এটি ছিল এক রোমাঞ্চকর শিক্ষানুভব, যা তাদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহকে আরও উদ্দীপিত করে তোলে। শিক্ষার্থীরা ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে কার্যক্রমে অংশ নেয়; প্রত্যেকে নির্ধারিত শব্দ খুঁজে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা উঁচিয়ে ধরে। ফলে শ্রেণিকক্ষটি এক প্রাণবন্ত শিক্ষার পরিবেশে পরিণত হয়, যেখানে খেলাধুলা, আনন্দ ও জ্ঞান একসঙ্গে মিশে যায়।
প্রিস্টিনার “লিটল মেমোরাইজার্স” একাডেমি শিশুদের জন্য একটি কুরআন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা পরিচালনা করছেন পবিত্র কুরআনের হাফেজা দুই বোন ফাতিমা ও রেনিতা নিতাই। তারা প্রিস্টিনার ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ থেকে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে, একাডেমি ১,০০০ জনেরও বেশি শিশুকে কুরআন এবং এই পবিত্র গ্রন্থের শিক্ষার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। কসোভোর শিশুদের কুরআন শেখানোর পাশাপাশি, শত শত আলবেনিয়ান অভিবাসী শিশু ইনস্টিটিউটের ভার্চুয়াল গ্রীষ্মকালীন কোর্সেও অংশগ্রহণ করেছে।
রেনিতা এবং ফাতিমা বলেন, যখন তারা ছোট ছিল, তখন তাদের বাবা-মা তাদের মধ্যে কুরআনের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তুলে। এই দুই বোনের কুরআনিক জীবন শুরু হয়েছিল ৭ বছর বয়সে, যখন তারা এই কুরআনিক যাত্রার দিকে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিল। তারা গ্রীষ্ম এবং শীতকালে কুরআন শিখতে থাকে কিন্তু তাদের পাঠ ত্যাগ করেনি।
দুই বোনই জানান, তারা তাদের পাঠে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছিল এবং অনেক বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল। তবে তাদের কুরআনিক জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হল, প্রথম পর্যায়ে পবিত্র গ্রন্থ মুখস্থ করা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে শিশুদের তা শেখানো। ইকনা



























