মিসরে কোরআন তিলাওয়াতকারীদের (ক্বারী ) সম্মানে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘর উদ্বোধনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত ক্বারি মরহুম শেখ আব্দুল বাসিত আব্দুস সামাদের পুত্র। তিনি এ উদ্যোগকে কোরআনের খাদেমদের প্রতি এক অনন্য আধ্যাত্মিক শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মিসরের রাজধানী কায়রোর উপকণ্ঠে নতুন প্রশাসনিক নগরীতে অবস্থিত ইজিপ্ট কালচারাল অ্যান্ড ইসলামিক সেন্টার-এ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশের প্রথম কোরআন তিলাওয়াতকারীদের জাদুঘর উদ্বোধন করা হয়।
মরহুম আব্দুল বাসিতের পুত্র শেখ তারিক আব্দুল বাসিত বলেন, এই জাদুঘর কোরআনের সেই মহান ক্বারিদের প্রতি এক গভীর আধ্যাত্মিক শ্রদ্ধা, যারা তাঁদের কণ্ঠের মাধ্যমে আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণ ও মানুষের মাঝে পৌঁছে দিয়েছেন। দৈনিক আদ–দুস্তুরকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ওয়াকফ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে সরকার যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, জাদুঘরটি কোরআনের মানুষদের জীবন, কর্ম ও অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি তুলে ধরে। “বিশিষ্ট কারিদের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট জাদুঘরে প্রদর্শন করা তাদের প্রতি এক অনন্য আধ্যাত্মিক সম্মান। তাদের জীবনী ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ একটি স্থান থাকা খুবই স্বাভাবিক।”
এই মহতী উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সবাই প্রশংসার যোগ্য বলে মন্তব্য করেন শেখ তারিক। তিনি বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রকল্প, যা মিসরের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষকেও মহান ক্বারীদের জীবন ও অবদান সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেবে।”
ক্বারীদের পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত স্মারক দানের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব সামগ্রীর সঙ্গে গভীর আবেগ ও আধ্যাত্মিক মূল্য জড়িত থাকায় পরিবারগুলোর জন্য সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। তবে একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব স্মারক নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের নিশ্চয়তাই তাদের সম্মত হওয়ার প্রধান কারণ।
তিনি জানান, বহু বছর ধরে এসব স্মারক ক্বারীদের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের কাছে সংরক্ষিত ছিল। কেউ ছবি, কেউ অডিও রেকর্ডিং, আবার কেউ ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছিলেন। তবে সরকারি জাদুঘরে সংরক্ষণের ফলে এগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং মানুষ ক্বারীদের জীবনকথা সম্পর্কে জানতে পারবে।
জাদুঘর পরিদর্শনের অনুভূতি প্রকাশ করে শেখ তারিক বলেন, এটি ছিল এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। “জাদুঘরে প্রবেশ করে চারপাশে কোরআনের আয়াত খোদাই করা দেয়াল দেখে মনে হচ্ছিল যেন আমি জান্নাতের কোনো বাগানে প্রবেশ করেছি। বিস্ময় ও শ্রদ্ধায় আমি অভিভূত হয়ে পড়ি, একই সঙ্গে এক গভীর প্রশান্তি ও আনন্দ অনুভব করি। এটি এমন এক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা, যা নিয়ে প্রত্যেক মুসলমান গর্ব করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, কোরআনের এই ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য একটি স্থায়ী স্থাপনার স্বপ্ন তিনি সবসময় দেখেছেন, তবে এমন সৌন্দর্য ও নান্দনিক নকশায় তা বাস্তবায়িত হবে—এটি কল্পনাও করেননি। তার মতে, এই জাদুঘর ইসলামী বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর সঙ্গে তুলনীয় এবং এটি প্রমাণ করে যে মিসর আগামীতেও মহান ক্বারি ও হাফেজদের আবাসভূমি হয়ে থাকবে। ইকনা



























