প্রতি বছর মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এক মহিমান্বিত বার্তা নিয়ে উপস্থিত হয় পবিত্র মাহে রমজান। এই মাস কেবল রোজা পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। ইসলামের দৃষ্টিতে রমজানের সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা ও পরিচয় এসেছে পবিত্র কুরআন নাজিলের মাধ্যমে। আল্লাহ তাআলা এই মাসকে তাঁর মহাগ্রন্থ নাজিলের জন্য নির্ধারণ করেছেন, যা মানবজাতির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা ও দিকনির্দেশনা।
মেহের নিউজ এজেন্সি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদ হুজ্জাতুল ইসলাম হাবিবুল্লাহ গাফুরি রমজান মাসের ফজিলত ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, রমজানের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর প্রতি যদি রোজাদাররা যথাযথ মনোযোগ দেয়, তবে তারা এ মাসের আধ্যাত্মিক সুফল সর্বোচ্চভাবে অর্জন করতে পারবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রমজান মাসের পরিচয়ই হলো কুরআন। আল্লাহ তাআলা যখন রমজান মাসের কথা উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি কুরআন নাজিলের প্রসঙ্গ এনেছেন। অর্থাৎ, কুরআনই রমজানের পরিচয়পত্র। এই মাসের প্রতিটি মুহূর্ত—সাহরির সময় থেকে ইফতার পর্যন্ত এবং বিশেষ করে শবে কদরের বরকতময় রাত্রিগুলো—সবই কুরআনের মর্যাদা ও সম্মানের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
গাফুরি আরও বলেন, কুরআন কেবল একটি পবিত্র গ্রন্থ নয়; এটি মানবজীবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানুষ যাতে পার্থিব জীবন ও পরকাল উভয় ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে পারে, সে জন্যই কুরআন নাজিল করা হয়েছে। আল্লাহ নিজেই কুরআনকে “নূর” বা আলো হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মানবজীবনের প্রতিটি দিককে আলোকিত করে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, কুরআন কেবল মুমিনদের জন্য নয়; বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি পথপ্রদর্শক। যে কেউ, যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, যদি আন্তরিকতার সঙ্গে কুরআনের দিকে ফিরে আসে, তবে কুরআন তাকে সত্যের পথে পরিচালিত করবে। কুরআনের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ মানুষকে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করে এবং তার মধ্যে প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টি সৃষ্টি করে।
অতএব, রমজান মাসের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করতে হলে কুরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। রোজা শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়; বরং এটি কুরআনের আলোয় নিজেকে আলোকিত করার একটি সুবর্ণ সুযোগ। কুরআনই রমজানের মূল সওগাত, যা মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং তাকে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করে। যদি আমরা এই মাসে কুরআনের শিক্ষাকে জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে রমজান আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক জীবনে এক স্থায়ী পরিবর্তন এনে দিতে সক্ষম হবে।



























