ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ক্রমেই কূটনৈতিক চাপে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে সরাসরি বা পরোক্ষ সহায়তা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের ইউরোপীয় মিত্ররা। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক বড় ধরনের ধাক্কা ও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তে ফ্রান্স, স্পেন এবং ইতালি—এই তিন পরাশক্তি দেশই ইরানের ভূখণ্ডে হামলায় নিয়োজিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর এই অবস্থান পরিবর্তনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দীর্ঘদিনের সামরিক সমর্থনের এক নজিরবিহীন বিচ্যুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হলে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, এই সংঘাত বিস্তৃত হলে পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ইউরোপের ওপর। মূলত সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতেই তারা এমন কঠোর রাজনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে।
দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের এমন পিছুটান কূটনৈতিকভাবে হোয়াইট হাউসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিত্রদের সক্রিয় সমর্থন ছাড়া এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র কতদূর এগোতে পারবে, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন এখন সামরিক ও কূটনৈতিক—উভয় লড়াইয়েই আগের চেয়ে অনেক বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।



























