আধিপত্যবাদ বিরোধী জনতার মঞ্চ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান ইরানী যোদ্ধাদের সাড়াশি আক্রমণে ইসরায়েল ও মার্কিনীরা তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও যেকোনো সময় আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বের সব শান্তিকামী মানুষকে সাম্রাজ্যবাদী ইহুদি-মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তারা আরও বলেন, ইরানের ওপর ইসরায়েল ও আমেরিকা বর্বরোচিত সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে বিশ্ব মানবতাকে পদদলিত করেছে। ইসরায়েল ও সাম্রাজ্যবাদী মার্কিনীদের অন্যায় আক্রমণ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সারাবিশ্বের শান্তিকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে ইরানে ইহুদি-মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিবাদে, ইহুদি-মার্কিনীদের পণ্য বর্জনের দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন আধিপত্যবাদ বিরোধী জনতার মঞ্চের প্রধান সমন্বয়ক, বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান।
সমাবেশে তিনি বলেন, “ইসরায়েল এবং তাদের প্রধান সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের সব পণ্য বর্জন করুন। আমরা যখন তাদের পণ্য বা সেবা ক্রয় করি, তখন সেই লভ্যাংশের একটি অংশ পরোক্ষভাবে সামরিক খাতে ব্যয় হয়। তাই এসব পণ্য বর্জন করা মানে হলো আগ্রাসনের অর্থায়নে বাধা দেওয়া।”
মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান বলেন, “আমাদের দেশে এমন অনেক ব্র্যান্ড বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা সরাসরি ইসরায়েলি বা মার্কিন মালিকানাধীন বা তাদের সাথে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে আবদ্ধ। অনেক ক্ষেত্রে দেশি কিছু অসাধু ব্যবসায়িক গোষ্ঠীও এসব আগ্রাসী শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করে। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো এসব পণ্য ও সেবাকে চিহ্নিত করা এবং বিকল্প হিসেবে দেশি পণ্যকে বেছে নেওয়া। কোমল পানীয় কোকাকোলা থেকে শুরু করে প্রসাধনী সামগ্রী বা প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই এখন মানসম্মত দেশীয় বা বিকল্প ব্র্যান্ড বিদ্যমান। আমাদের কেনাকাটার অভ্যাসে ছোট পরিবর্তন আনলে তা একদিকে যেমন আগ্রাসী শক্তির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে আমাদের দেশের স্থানীয় শিল্পকে সমৃদ্ধ করবে।”
তিনি আরও বলেন, “ইরানের ওপর হামলার মতো ঘটনার প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনসহ মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমাদের অর্থনৈতিক সংহতি বজায় রাখা জরুরি। আমাদের প্রতিটি কেনাকাটা যেন কোনো অন্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতা না করে—আজ সেই শপথ নেওয়ার সময় এসেছে। ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ মুসলিম দেশসমূহের নেতৃত্বে নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সুদৃঢ়করণ ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী “ইসলামিক ন্যাটো” বা সামরিক জোট গঠন করতে হবে, যার লক্ষ্য হবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।”
সংগঠনের সমন্বয়ক, বিশিষ্ট মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব ও রাষ্ট্রচিন্তক মঞ্জুর হোসাইন ঈসার পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্বসেরা কবি ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম রুস্তম। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী বুদ্ধিজীবী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান শাহসুফি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আব্দুল হাদী। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা শওকত আমীন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মাওলানা আলহাজ্ব মাসুদ উর রহমান বিক্রমপুরী, আধিপত্যবাদ বিরোধী জাতীয় মঞ্চের কো-চেয়ারম্যান হাজী মো. নাঈম হাসান, আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এইচ এম মনিরুজ্জামান, জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম মজুমদার, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মির্জা শরীফুল আলম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুব হোসেন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামীর চেয়ারম্যান মাওলানা ওবায়দুল হক, অধ্যাপক শরীফুল হক, বাংলাদেশ কংগ্রেসের সহকারী মুখপাত্র কবি সেলিম রেজা বাচ্চু, মাওলানা বেলায়েত হোসেন, মাওলানা আব্দুল হালিম সিরাজীসহ আরও অনেকে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দরা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্বরোচিত সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে খোদ আমেরিকার জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া ইসরায়েল ফিলিস্তিন, গাজা, লেবানন, মিশরসহ আশেপাশের অনেক দেশের ওপর দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে দখলবাজি, হামলা ও গণহত্যা চালিয়েছে।
তারা আরও বলেন, গত ৪০ দিনের যুদ্ধে আমেরিকা ও জায়নবাদী ইসরায়েলের সামরিক যন্ত্রকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। আমেরিকা কয়েকবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং কোনো আল্টিমেটামকেই গুরুত্ব দেয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নেতা শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পবিত্র রক্তের বরকতে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনির দূরদর্শী নেতৃত্বে ইরান বিশাল জয় অর্জন করেছে বলেও সমাবেশে উল্লেখ করা হয়।
বক্তারা দাবি করেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সব সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং লেবাননের হিজবুল্লাহসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
মহান আল্লাহর বাণী উদ্ধৃত করে বলা হয়, “তোমরা শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শক্তি সঞ্চয় করে রাখো”—এবং “তোমরা ভীত হয়ো না, তোমরা চিন্তিত হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা ঈমানদার হও”।
সমাবেশ শেষে ইরানে ইহুদি-মার্কিন হামলা বন্ধের দাবিতে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।



























