যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভ্যন্তরে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পেন্টাগনের সামরিক ব্রিফিংয়ের তথ্য নিয়ে প্রকাশ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছেন বলে একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়েও তিনি উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্যান্স সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর কাছে পেন্টাগনের দেওয়া তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সমরাস্ত্র মজুত রয়েছে এবং তা দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
তবে স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র মজুত পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে সরবরাহ শৃঙ্খল ও উৎপাদন সীমাবদ্ধতা এই ঘাটতিকে আরও জটিল করছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা মূল্যায়নে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। কিছু বিশ্লেষণ বলছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত অস্ত্রের পরিমাণ দ্রুত পুনরায় পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা ভবিষ্যৎ সংঘাতের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ নির্ভুল এবং নিয়মিতভাবে হোয়াইট হাউসকে আপডেট করা হয়। তবে প্রশাসনের ভেতরে তথ্য উপস্থাপন ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ প্রশাসনের মধ্যে এই ধরনের মতভেদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক পরিকল্পনায় চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র : তাসনিম নিউজ



























