ইউরোপের দেশ কসোভোর ভুশত্রি শহরে পবিত্র কোরআন শিক্ষার প্রাথমিক স্তর সম্পন্ন করা শিশুদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ‘আ গেটওয়ে টু দ্য কোরআন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রায় ৮০ জন শিশু শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয়। আরবি বর্ণমালা শেখার প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করায় তাদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
মুসলিমস অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামিক ডিপার্টমেন্টের নারী বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে ছেলে ও মেয়ে উভয় শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
আরবি বর্ণমালা শেখার প্রাথমিক ধাপ শেষ করা শিক্ষার্থীরা এবার পবিত্র কোরআন আরবি ভাষায় তিলাওয়াত, তাজবিদের নিয়ম শেখা এবং শুদ্ধভাবে কোরআন পাঠের দক্ষতা অর্জনের পরবর্তী স্তরে উন্নীত হওয়ার সুযোগ পাবে। আয়োজকদের মতে, শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষাজীবনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন কার্যক্রম সমন্বয়ক রোভিনা ক্লিনাকু। তিনি শিক্ষার্থীদের সাফল্য ও অধ্যবসায়ের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষায় সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের অভিনন্দন জানান।
ইসলামিক ডিপার্টমেন্টের নারী বিভাগের প্রধান ভাইদে বুনজাকু মুসলমানদের জীবনে পবিত্র কোরআনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মানুষের আচরণ পরিচালনা, নৈতিকতা গঠন এবং মহৎ মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কোরআনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় সংগীত ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয়। এসব পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তাদের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি কোরআন শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
কসোভোর মসজিদভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশু-কিশোরদের কোরআন শিক্ষার জন্য পর্যায়ক্রমিক পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হয়। প্রথমে আরবি বর্ণমালা শেখানো ও সঠিকভাবে পড়ার দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা কোরআন তিলাওয়াত, তাজবিদের নিয়ম এবং শুদ্ধ উচ্চারণের চর্চা করে।
এসব শিক্ষাক্রমে শুধু কোরআন পাঠের মধ্যেই শিক্ষা সীমাবদ্ধ থাকে না। ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ইবাদত, নৈতিকতা, সামাজিক শিষ্টাচার, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন এবং ইসলামের ইতিহাসও পাঠদান করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম, শিক্ষা সফর, প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের মতে, ‘আ গেটওয়ে টু দ্য কোরআন’ অনুষ্ঠানটি শুধু সনদ বিতরণের আয়োজন নয়; বরং শিশুদের কোরআন শিক্ষার প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করার স্বীকৃতি। এর মাধ্যমে তারা আরবি ভাষায় সরাসরি পবিত্র কোরআন পাঠ এবং উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ইকনা



























