সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে একটি ভূগর্ভস্থ পথ বা সুড়ঙ্গ নির্মাণের পরিকল্পনা উন্মোচন করা হয়েছে, যা একটি মসজিদের সঙ্গে পবিত্র কুরআন স্মৃতিস্তম্ভকে সংযুক্ত করবে।
শারজাহ কর্তৃপক্ষ ‘কালচারাল স্কয়ার’ (সাংস্কৃতিক চত্বর) এলাকায় এই ভূগর্ভস্থ পথটি নির্মাণ করছে, যাতে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল মসজিদ এবং এর আশপাশের এলাকার মধ্যে মানুষ নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে।
সুড়ঙ্গটির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে মুসল্লি ও দর্শনার্থীরা কোনো ধরনের যানজট সৃষ্টি না করে কিংবা সেখানকার ফুল ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট না করেই নিরাপদে চত্বরটি পার হতে পারবেন। এছাড়া, এই সুড়ঙ্গটি দর্শনার্থীদের জন্য ওই স্থানে ছবি তোলার কাজকেও আরও সহজ করে তুলবে।
শারজাহর শাসক এবং সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য শেখ সুলতান বিন মোহাম্মদ আল কাসিমি, শারজাহ ব্রডকাস্টিং অথরিটির ‘ডাইরেক্ট লাইন’ অনুষ্ঠানে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এই প্রকল্পের ঘোষণা দেন।
শেখ সুলতান ‘কালচারাল স্কয়ার’-এ অবস্থিত পবিত্র কুরআন স্মৃতিস্তম্ভটিকে মুসলমানদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কুরআনের ভূমিকার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন যে, এই এলাকাটিকে ভবিষ্যতে ‘কুরআন স্কয়ার’ বা ‘বুক স্কয়ার’ (বই চত্বর) নামেও অভিহিত করা যেতে পারে।
শারজাহর শাসক আরও জানান, তাঁর রচিত ‘কম্প্রিহেনসিভ অ্যারাবিক এনসাইক্লোপিডিয়া’ (সামগ্রিক আরবি বিশ্বকোষ)-এর দ্বিতীয় খণ্ডটি ৪৫তম শারজাহ আন্তর্জাতিক বইমেলায় উপস্থাপন করা হবে। ‘মেড অব স্টোরিজ’ (গল্প থেকে গড়া) প্রতিপাদ্য নিয়ে আগামী ৪ নভেম্বর শারজাহ এক্সপো সেন্টারে এই বইমেলা শুরু হবে।
এই বিশাল প্রকল্পটি চার বছরে চারটি পর্যায়ে প্রকাশিত হচ্ছে, যার লক্ষ্য হলো মোট ৫০০ খণ্ড সম্পন্ন করা। গত বছর প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়, যাতে বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ৪৬টি খণ্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল। নতুন এই খণ্ডগুলো যুক্ত হলে মোট খণ্ডের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৩০টিতে।
তৃতীয় পর্যায়ের কাজ আগামী বছর এবং চতুর্থ তথা চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ তার পরের বছর সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
এই বিশ্বকোষটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে বিভিন্ন বিষয়ের তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যায় এবং গবেষণা আরও সহজতর হয়। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি কবি আহমেদ শাওকিকে নিয়ে গবেষণা করেন, তবে তিনি এক ক্লিকেই কবির সমালোচকদের খুঁজে বের করতে পারবেন এবং তাঁদের মূল্যায়ন সম্বলিত বইগুলোও সহজে পেয়ে যাবেন।
ধর্মীয় বিজ্ঞান, আরবি ভাষা ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রায় ১,০০০ গবেষক এই প্রকল্পটিতে অবদান রেখেছেন। এ বছর সাহিত্য ও শিল্পকলা—যার মধ্যে রয়েছে নাট্যকলা, উপন্যাস, আলোকচিত্র ও চিত্রকর্ম—নিয়ে কাজ করার জন্য আরও ৩০০ জন গবেষক যুক্ত হয়েছেন, যার ফলে মোট গবেষকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৩০০ জনে।
শেখ সুলতান এই বিশ্বকোষটিকে একটি অভূতপূর্ব উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জ্ঞান, সাহিত্য, চিন্তাধারা ও ধর্মীয় পাণ্ডিত্যের অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সূত্র: ইকনা




























