উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার সিরতে শহরে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার ১৪তম আসর । রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। এতে বিশ্বের ৮১টি দেশ থেকে ১৩৪ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন।
লিবিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় (আওকাফ) ও ইসলামবিষয়ক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা ১০ দিনব্যাপী চলবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বাওয়াবাত আল-ওয়াসাত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লিবিয়ার আওকাফমন্ত্রী শেখ আতেফ আল-ওবেইদি, সুপ্রিম ফতোয়া কমিটির চেয়ারম্যান শেখ আহমেদ আবদুল হাফেজ, সিরতে শহরের মেয়র মুখতার আল-মাদানি এবং দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মরক্কোর কারি ইলিয়াস হাজরি ও মিসরের কারি মুহাম্মদ আতাল্লাহ। পরে উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন আওকাফমন্ত্রী শেখ আতেফ আল-ওবেইদি। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিযোগী ও অতিথিদের স্বাগত জানান।
বক্তব্যে তিনি বলেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজনের আয়োজক হতে পারা লিবিয়ার জন্য সম্মানের বিষয়। তিনি সবাইকে আল্লাহকে ভয় করা, পবিত্র কোরআন হিফজ করা এবং কোরআনের বিধিবিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে তা জীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিরতের মেয়র মুখতার আল-মাদানিও অংশগ্রহণকারী ও অতিথিদের স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন সংঘাত-পরবর্তী লিবিয়াকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দেয়। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিরা লিবিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের পর্যবেক্ষণ বাস্তবতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নিজ নিজ দেশে তুলে ধরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারী অতিথিদের পক্ষে বক্তব্য দেন সাদিক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ। তিনি প্রতিবছর আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করায় লিবিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সাদিক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, প্রতিবছর এ প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতাগুলোতে লিবিয়ার কোরআন হাফেজ ও ক্বারিদের সাফল্যের প্রশংসা করেন তিনি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় লিবিয়ার প্রতিযোগীদের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স এবং শীর্ষস্থান অর্জনের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১০ দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোরআন হিফজকারী ও ক্বারিরা অংশ নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এ আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের কোরআন শিক্ষার্থী ও হাফেজদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
লিবিয়ায় প্রতিবছর অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতাটি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়। এবারের ১৪তম আসরে ৮১টি দেশের ১৩৪ জন প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ প্রতিযোগিতাটির আন্তর্জাতিক পরিসর ও গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছে। ইকনা




























