গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সামরিক আগ্রাসন বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
মেহর নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে পার্স টুডে জানায়, গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের (GECF) অষ্টম শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং জ্বালানি নিরাপত্তার সামনে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক আলোচনা চলাকালে দুই দফায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সামরিক আগ্রাসন ছিল বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিপজ্জনক ঘটনা। ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা এবং জ্বালানি পরিবহন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি করার ফলে বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে।
নৌ ও আকাশপথে ইরানের অবরোধের নিন্দা জানাতে হবে
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও চাপের সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, বিভিন্ন দেশের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইরানের নৌ ও আকাশপথ অবরোধের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ চালানো- পাশাপাশি অন্য দেশগুলোকেও এই অবরোধ মেনে চলতে চাপ দেওয়া- অবৈধ পদক্ষেপ। এসব কর্মকাণ্ড জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতাকে গুরুতর ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরাম: আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মঞ্চ
ইরানের প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্যের শুরুতে ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁর উদ্যোগ ও সমর্থন গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ফোরামের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরাম বর্তমানে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এটি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সহযোগিতা জোরদারের একটি কার্যকর মঞ্চ তৈরি করেছে।
বাজারের স্থিতিশীলতা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্য বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণকে অপরিহার্য করে তুলেছে।
তিনি বলেন, কৌশলগত ক্ষেত্রে প্রধান গুরুত্ব দিতে হবে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যের পরিমাণ কীভাবে বাড়ানো যায়, সেই বিষয়ে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে গ্যাসের মূল্য সংযোজন শৃঙ্খলের প্রতিটি পর্যায়ে- উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে পরিবহন ও ব্যবহার পর্যন্ত—যৌথ বিনিয়োগ সম্প্রসারণ সদস্য দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান গ্যাস খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রস্তুত
বিশ্ব গ্যাসবাজারে ইরানের অবস্থান তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতের অধিকারী দেশ হিসেবে ইরান এই ফোরামের আওতায় বহুপাক্ষিক কূটনীতি এগিয়ে নেওয়া, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং গ্যাস অবকাঠামোয় বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরগুলোর কেন্দ্রস্থলে কৌশলগত অবস্থানের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার সহনশীলতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইরানের উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে।
ইরানের গ্যাসশিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, এসব সক্ষমতা প্রাকৃতিক গ্যাসের আপস্ট্রিম ও ডাউনস্ট্রিম খাত এবং গ্যাস বাণিজ্যে সদস্য দেশগুলোর বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ইরানে প্রদত্ত প্রণোদনা ও সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।#
পার্সটুডে/



























