ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সরকার গঠনে হয়ে উঠতে পারে আরব দলগুলো। নির্বাচনী পূর্বাভাসে তাদের ১৯টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী শিবিরের সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন পেতে হলে রাজনৈতিক সমঝোতার পাশাপাশি তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্বের আপত্তিও মোকাবিলা করতে হবে।
স্বাধীন সাংবাদিক ও ‘দ্য প্যালেস্টাইন ল্যাবরেটরি’ বইয়ের লেখক অ্যান্থনি লোয়েনস্টাইন আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে তাঁদের বসবাসের এলাকাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আরব অধ্যুষিত এলাকায় অপরাধের হার বেড়ে গেলেও তা মোকাবিলায় রাষ্ট্রের ভূমিকা যথেষ্ট ছিল না।
লোয়েনস্টাইন বলেন, ইসরায়েলে তাঁর ফিলিস্তিনি বন্ধুরা রাজনৈতিক বিকল্পগুলো নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন। তবে তাঁদের কাছে নেতানিয়াহুর আরও চার বছরের শাসনের তুলনায় বিকল্প নেতৃত্ব বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
আইজেনকটের সঙ্গে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য জোট নিয়ে লোয়েনস্টাইন বলেন, এমন অংশীদারত্ব অসম্ভব নয়। তবে আইজেনকট ও তাঁর সহযোগীরা সরকারে আরব দলগুলোর অংশগ্রহণ মেনে নিতে রাজি হবেন কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
মূল্যবোধের পার্থক্যের কথা উল্লেখ করে আইজেনকট এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। ফলে নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আলোচনায় তাঁর অবস্থান বদলায় কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। লোয়েনস্টাইনের মতে, আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠন সম্ভব হলেও সেই জোট দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য সাধারণত অন্তত ৬১ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। কোনো পক্ষই এই সংখ্যায় পৌঁছাতে না পারলে সরকার গঠনে জোটের সমর্থন ও রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে আরব দলগুলো শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষকে সমর্থন করে, তা ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে তাদের জোটের সম্ভাবনা, আইজেনকটের অবস্থান এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক মতপার্থক্যই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত তারা কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। ফলে নির্বাচনের ফলাফলের পাশাপাশি সরকার গঠনের আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতাও হয়ে উঠবে ইসরায়েলের পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা




























