ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে একাধিক রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠন। কর্মসূচিতে বক্তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা বিশ্ব ব্যবস্থার প্রতি স্পষ্ট উপেক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। সোমবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পৃথকভাবে কর্মসূচি দেয় সংগঠনগুলো।
বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাউস বিল্ডিং চত্বরে এসে সমাপ্ত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি এই বর্বরতা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অগ্নিগর্ভে পরিণত করবে। এর অভিঘাত বিশ্বের সবাইকে স্পর্শ করবে। তাই এই সংঘাত বন্ধ করতেই হবে। অন্যথায় ইসলামী আন্দোলন কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে।
দলের ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন দলটির সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহমদ আবদুল কাইয়ুমসহ দলটির অন্য নেতারা।
আবদুল কাইয়ূম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দস্যুতা গোটা পৃথিবীকে নতুন করে এক মহাযুদ্ধের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সভাপতির বক্তব্যে ফজলে বারী মাসউদ বলেন, পবিত্র রমজান মাসে এই হামলার মধ্য দিয়ে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সন্ত্রাসী রূপের আবারও বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।
ইরানে হামলা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ৯টি বাম রাজনৈতিক দলের জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট’। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন গিয়ে শেষ হয়।
গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা রাশেদ শাহরিয়ার, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, সোনার বাংলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন অর রশীদ।
সমাবেশে নেতারা এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মৌলিক নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। তারা জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোকে ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবৈধ আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ নাগরিক সংঘ’। সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়। নাগরিক সংঘের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা আবেদ রাজা, মাহবুব আলম প্রমুখ। বক্তারা বলেন, আমেরিকা এবং ইসরায়েল আগ্রাসীভাবে ইরানের ওপর আক্রমণ করেছে। অবিলম্বে এই অন্যায় আগ্রাসন বন্ধ করার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি।
ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অসংখ্য মানুষ হত্যার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। গতকাল সোমবার পৃথক বিবৃতিতে এসব সংগঠনের নেতারা এই প্রতিবাদ জানান।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ বকুল এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সারাবিশ্বের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ, দখল ও সামরিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে আগ্রাসনের নীতি নিয়েছে। এটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথ প্রশস্ত করছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিব উদ্দীন হোসেন পৃথক এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন-ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জনগণের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম হুমকি সৃষ্টি করছে। অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বিবৃতিতে বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কর্তৃত্বকে লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই হামলা বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর চরম আঘাত। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যেভাবে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, তার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।




























