ইরান থেকে ওমরাহযাত্রী পাঠানোর প্রথম ধাপ আগামী ৭ অক্টোবর শুরু হয়ে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। দেশটির হজ ও জিয়ারত সংস্থার প্রধান আলিরেজা রশিদিয়ান এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের এক বৈঠকে তিনি জানান, ওমরাহযাত্রী পাঠানোর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যয় কমানো এবং সেবার মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হজ ও জিয়ারত তথ্যকেন্দ্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, বৈঠকে আলিরেজা রশিদিয়ান বলেন, চলমান অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পরিস্থিতিতে ওমরাহযাত্রীদের খরচ কমাতে এবং সেবার মান অক্ষুণ্ন রাখতে বিদ্যমান সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ব্যয় কমানো এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তীর্থযাত্রা পরিচালনাকারী কার্যালয় ও এজেন্টদের সহযোগিতা করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে উমরাহ সাদাত ইনস্টিটিউটের প্রধান মোহাম্মদ জাভাদ দানেশইয়ার জানান, ওমরাহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে আগামী ৭ অক্টোবর থেকে ওমরাহযাত্রী পাঠানোর প্রথম ধাপ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রতি পাঁচ দিনে দুটি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে ফ্লাইটের সংখ্যা ও যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোরও সুযোগ রয়েছে।
এবার প্রথমবারের মতো ইরান থেকে ওমরাহযাত্রীদের জন্য জেদ্দা বিমানবন্দরে কোনো ফ্লাইট রাখা হয়নি। এর পরিবর্তে মদিনা ও তায়েফ বিমানবন্দর ব্যবহার করা হবে। দীর্ঘ যাত্রার পর মক্কার মিকাত এলাকায় যাওয়ার পথের ক্লান্তি কমানো এবং মসজিদুল হারামে ইবাদত ও জিয়ারতের জন্য আরও উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ওমরাহ। হজের মতো ওমরাহ সবার জন্য ফরজ নয়; এটি একটি মুস্তাহাব বা নফল ইবাদত। বছরের যেকোনো সময় মুসলিমরা ওমরাহ পালন করতে পারেন। অন্যদিকে হজ শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমের জীবনে একবার ফরজ এবং নির্দিষ্ট সময়ে, জিলহজ মাসের প্রথম দিনগুলোতে তা পালন করতে হয়।
ইরান থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব সফর করেন। এবার যাত্রীদের ব্যয় কমানো, যাত্রাপথের ক্লান্তি হ্রাস এবং সেবার মান বজায় রাখার বিষয়গুলোকে সামনে রেখে ওমরাহ পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইকনা




























