যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সামরিক হামলা না চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলেও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং দুই দেশের মধ্যে বিরোধ নিরসনের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
এ সপ্তাহে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি টানার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তবে একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো সময়ই ইরানে হামলা চালানো হবে না।’ তিনি আরও জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে।’
গত মাসের শেষ দিকে ইরানের একটি প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করার পর দুই দেশের আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহণ করা হয়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ বা চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
তবে গত সপ্তাহে ইরান জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি পালটা প্রস্তাব পেয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই তেহরান এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব দেবে বলে তিনি আশা করছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর ট্রাম্পের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো হয়নি। ইরানের পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে তেহরানের আনুষ্ঠানিক জবাব এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পরবর্তী অগ্রগতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আলোচনা কতটা কার্যকর হয় এবং দুই দেশ বিরোধ নিরসনে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, তা নির্ভর করবে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ও পারস্পরিক শর্তের ওপর।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি




























